মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
spot_img

টানা ভারী বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম, ‘ম্যাজিক’ নয় বললেন মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়তে অভ্যস্ত চট্টগ্রাম নগরবাসী। বৃষ্টি নামলেই নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা, সড়ক ও মোড়ে জমে যেত হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। সৃষ্টি হতো তীব্র যানজট ও জলজট। তবে এবার টানা দুদিনের ভারী বর্ষণেও সেই চিরচেনা দুর্ভোগের দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত। নগরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে। অতীতে যেসব এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যেত, সেসব স্থানেও এবার তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।

কীভাবে এমন পরিবর্তন সম্ভব হলো—এ প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এটি কোনো ‘ম্যাজিক’ নয়; বরং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মনিটরিং, সব সেবা সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ফল। মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে গঠিত সমন্বয় কমিটির কার্যকর তদারকি, খাল-নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণেই এবার টানা ভারী বর্ষণেও নগরবাসী বড় ধরনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই এবার তেমন জলাবদ্ধতা হচ্ছে না।’ এদিকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র। এ সময় তিনি খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে চলমান কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন মেয়র এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম তদারকের নির্দেশ দেন তিনি।

মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় চসিকের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেন, নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতন সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন মেয়র। অতীতে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার প্রবণতা বেশি ছিল, সেসব স্থানে বিশেষ নজরদারি এবং খাল, নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন মেয়র। তাদের কাছ থেকে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতির বিষয়ে মতামত নেন এবং নাগরিকদের অভিযোগ বা তথ্য দ্রুত যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেন।

চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বর্ষা মৌসুমজুড়ে খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত