বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
spot_img

সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দুই পক্ষের ককটেল বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয়কর্মীসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সীতাকুণ্ড পৌর সদর ও আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা একই সময়ে পৌর সদরের মুনস্টার এলাকায় পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে উভয় পক্ষকে পৃথক স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানানো হয়।আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা সকাল সাড়ে ১১টা থেকে মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে জমায়েত শুরু করেন। অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন।দুপুরের পর আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান নেন। দুপুর ২টার দিকে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যানজট প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারী মো. শামসুদ্দৌহা বলেন, তাঁদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান।বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মিল্টন মণ্ডল বলেন, দুপুর ২টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল ৪টার পর আটকে থাকা যানবাহন ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করে। যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।দলীয় সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সীতাকুণ্ড বিএনপির রাজনীতি মূলত দুটি বলয়ে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এবং তাঁর অনুসারীরা।

আসলাম চৌধুরীর অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব দাবিদার মোহাম্মদ মোরছালীন বলেন, সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর বাইরে ভিন্ন কিছু চিন্তা করার সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তিনি কাজী সালাউদ্দিন ও তাঁর অনুসারীদের দায়ী করেন।  অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিন সমর্থিত কমিটির উপজেলা সদস্যসচিব কাজী মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পণ্ড করতে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। এতে তাঁদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর সদর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বিকেলের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত