রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর আশা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগে’ মূল বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। বাংলাদেশের বিশাল ভোক্তাবাজার ও তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জাপানি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৩৭টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো এবং জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ—নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো এবং সহজ শুল্ক ও কর প্রক্রিয়া—সমাধানে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা কমানোর মাধ্যমে জাপানি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা সম্প্রসারণে তিনটি অগ্রাধিকার খাতের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।জ্বালানি খাতে দেশের নিরাপত্তা ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকসকে কেন্দ্র করে ‘বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান ও উপগ্রহ প্রকৌশলে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে সংযুক্ত করতে এলিভেটেড হাইওয়ে ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উৎপাদন খাত, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের তরুণদের জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভাষাগত দক্ষতা দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সহজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।বক্তব্যে জাপানকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন তারেক রহমান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে আগামী কয়েক দশকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করাই ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত