রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬

নামের মিলেই এক বছর কারাগারে নির্দোষ ব্যক্তি, প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি কানাডায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই যুগ আগে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আলমাছ। অথচ তাঁর পরিবর্তে একই নামের কাছাকাছি হওয়ায় মো. আলমাস নামের আরেক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কারাগারে থাকা আলমাস ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন। প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আলমাছ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

নামের মিলের কারণে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে রিট করেন কারাগারে থাকা মো. আলমাস। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি দুই ব্যক্তির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুসন্ধান পরিচালনা করেন। আদেশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা ছিল। এর ধারাবাহিকতায় আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার মো. আলমাস এবং মিরপুর থানার অস্ত্র মামলায় দণ্ডিত মো. আলমাছ সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারে থাকা মো. আলমাসের বাবা শেখ খলিল এবং মায়ের নাম রশনারা বা রাসনারা বেগম। তাঁর বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলার সুন্দরীপাড়া এলাকায়। অন্যদিকে অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মো. আলমাছের বাবার নাম মো. খলিলুর রহমান, খলিল আহম্মেদ বা মো. আবুল খায়ের (খলিল)। তাঁর বাড়ি পূর্ব ধোয়াইর এলাকায়। প্রতিবেদনে প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামির কানাডায় অবস্থানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুল গ্রেপ্তারের পেছনে তিন কারণ

অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রথমত, গ্রেপ্তার মো. আলমাস ২০০৭ সালের আগে সপরিবারে দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন ব্রাহা গ্রামে বসবাস করতেন। অন্যদিকে প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আলমাছের গ্রাম পূর্ব ধোয়াইরও একই ডাকঘরের অধীন। ফলে ডাকঘরের নাম ধরে ঠিকানা দেওয়ার প্রচলনের কারণে দুজনের ঠিকানায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, দুই ব্যক্তির বাবার নামের মধ্যে আংশিক মিল ছিল। প্রকৃত আসামির বাবার নামের একাধিক রূপের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বাবা শেখ খলিলের নামের সাদৃশ্য পরিচয় শনাক্তে বিভ্রান্তি বাড়ায়।

তৃতীয়ত, ২০০২ সালে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় দণ্ডিত মো. আলমাছের ঠিকানা ভুলক্রমে ‘পূর্ব ধোয়াইর’-এর পরিবর্তে ‘দক্ষিণ বাহ্রা’ লেখা হয়েছিল। পরবর্তী নথি এবং রায়ের পর জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাতেও ভুল ঠিকানাটি বহাল থাকে।

এদিকে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য ওঠে। আদালত আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর প্রথম আলোতে ‘নামের মিলে ১০ মাস ধরে কারাগারে, প্রকৃত আসামি কে তদন্তের নির্দেশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে দুই ব্যক্তির নাম ও বাবার নামের আংশিক মিলের কারণে ভুল গ্রেপ্তারের বিষয়টি উঠে আসে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত