শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
spot_img

চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত

হেলাল উদ্দিন

সোমবার ২ জুন বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির উদ্যোগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের স্মৃতিচারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন নোমান ভাইয়ের কাছ থেকে শেখা অনেক রাজনৈতিক কৌশল ও আদর্শ আজ আমার মেয়র জীবনে বাস্তব প্রয়োগে আসছে। ওনার কাছ থেকেই আমি শিখেছি কিভাবে ধৈর্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে হয়। তিনি আমাকে পছন্দ করতেন, ভালোবাসতেন। আমি মেয়র হয়েছি, তার কাছ থেকে শেখা অনেক কৌশল, নরম নেতৃত্বের কৌশল এখন আমার কাজে লাগছে। আব্দুল্লাহ আল নোমান চিরকাল স্মরণীয় থাকবেন। লাখো মানুষের হৃদয়ে তিনি জ্বলজ্বল করে জ্বলবেন। সবার কাছে অনুরোধ, উনার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।

পিপলস ভিউ’র সম্পাদক ওসমান গণি মনসুরের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য শাহনেওয়াজ রিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাঈদ আল নোমান।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৮৭ সালে নোমান ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। আমি তখন মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কিছু নবীন শিক্ষার্থী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছিল, কিন্তু বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছিল। ওরা আমার বাসায় এসে বারবার অনুরোধ করতো, দায়িত্ব নিতে। আপনাকে নোমান ভাইয়ের সঙ্গে একটু দেখা করতে হবে। তখন আমি বললাম— আমি তো উনাকে চিনি না ভালো করে। ওনার কাছে কিভাবে যাব? তখন তারা আমাকে বললো, চলেন একটা বাসা আছে, সেখানে আমরা কথা বলবো। গোলাম আকবর খন্দকার ভাইয়ের বাসায় গেলাম। সেখানে নোমান ভাই, গোলাম আকবার ভাই এবং আমরা ছেলেরা কয়েকজন ছিলাম।আর সেখান থেকেই শুরু হয় আমার ছাত্রদল নেতৃত্বের পথচলা। মূলত ওইদিন থেকে নোমান ভাইয়ের সঙ্গে যেই সম্পর্কটা হয়ে গেছে, এ সম্পর্কটা প্রায় ৩৮ বছর। এই সম্পর্কের মধ্যে আমি কখনোই ওনাকে রাগান্বিত হতে দেখিনি। মেডিকেল কলেজে তখন খুব গন্ডগোল হতো। এমনও হয়েছে— নোমান ভাই অনেক সময় মেডিকেল কলেজের ছাত্র রাজনীতিতে আমরা ঠিক মতো মিছিল করছি কিনা, গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতেন। সন্ধ্যায় যখন পার্টি অফিসে যেতাম, তখন তিনি আমাকে বলতেন তোমাদের তো আজকে ১২জনের মিছিল হয়েছে। আমি বললাম, আপনি কেমনে দেখেছেন, তখন তিনি বললেন আমি দেখেছি ওই গাছের নিচে আমি ছিলাম। তবে ওনাকে কখনো রাগতে দেখিনি। পরে তিনি আমাকে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সারগাম’রও আহ্বায়ক কopন।

দৈনিক আজাদী সম্পাদক আরো বলেন, স্বাভাবিকভাবেই রাজধানীকেন্দ্রিক সব আন্দোলন সংগ্রামে তাঁকে সামনের সারিতে দেখেছি। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল খুবই জোরালো। কথা বলতেন যুক্তি ও তথ্য দিয়ে। তোয়াক্কা করতেন না কোনো শক্তির। শুধু রাজপথেই নয়, ঘরোয়া প্রোগ্রাম কিংবা সভা-সেমিনারেও তাঁকে দেখেছি সারগর্ত আলোচনা করতে। দীর্ঘ ৫০ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সাংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে অসংখ্য আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। তাঁর পিতা আহমদ কবীর চৌধুরী ও পিতামহ আবদুল লতিফ মাস্টার দু’জনই বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী ও সমাজহিতৈষী ছিলেন। তাঁর পিতা রাউজান স্কুল, বড় ভাই আবদুল্লাহ আল হারুন রাউজান কলেজ প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আবদুল্লাহ আল নোমানও একটি কলেজ এবং ইস্ট ডেল্টা ইউনিভারসিটি নামে একটি ইউনিভারসিটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রচলিত রাজনীতির বাইরে তিনি ছিলেন আধুনিক ও অগ্রসর চিন্তার মানুষ।

সাইদ আল নোমান বলেন, আমার পিতা আবদুল্লাহ আল নোমান পাহাড়সম সমস্যাকে সমুদ্রের তরঙ্গের মতো, যোগ বিয়োগের মতো করে যেন সমাধান করে ফেলতেন। সমস্যা আসলে তিনি ভেঙে পড়তেন না, এগিয়ে যেতেন। তিনি আমাদের মিতব্যয়ী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। এই শিক্ষাটাই আমাদের জীবনে পথনির্দেশকের মতো কাজ করেছে। জননন্দিত হয়ে মৃত্যু পায় এমন মানুষ আমাদের সমাজে কম আছে। আমি গর্বিত যে, এমন একজন জননন্দিত মানুষের সন্তান আমি। তিনি তার বাবার আত্মার মাগফেরাত কামনায় সবার দোয়া কামনা করেন।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নীতিশ দেবনাথ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক নছরুল কদির, বিএসএফএফের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও দৈনিক আমার দেশের আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালিন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, চবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. ছিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, ইষ্ট ডেলটা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কে এম ফেরদৌস, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি মুস্তফা নঈম, কবি ও নাট্যকার অভীক ওসমান, কোরান তেলোয়াত করেন সহকারী অধ্যাপক ওসমান গনি।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত