
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনভর সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। খবর দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট।
রাজধানীর নিউ বানেশ্বর এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পোখরা, বুটওয়াল, ভৈরবাওয়া, ভারতপুর, ইতাহারি ও দমকসহ বিভিন্ন শহরে। একপর্যায়ে তরুণ বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে তাদের ঠেকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার পর কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুনসারির ইতাহারিতে গুলিতে আহত দুজন মারা যাওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। দেশব্যাপী অন্তত ৩৪৭ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন, যাদের অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন।
এভারেস্ট হাসপাতালের চিকিৎসক অনিল অধিকারী বলেন, চারজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। জাতীয় ট্রমা সেন্টারের ডা. দীপেন্দ্র পাণ্ডে জানান, মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। নিরাপত্তা বাহিনী কাঠমান্ডুসহ বড় শহরগুলোতে কড়া টহল দিচ্ছে।
এদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে উভয় পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। কমিশন বলেছে, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। তারা বিক্ষোভকারীদের ভাঙচুর ও পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছে।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে মূলত জেনারেশন জেড তরুণরা। তারা দুর্নীতি, রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। সকাল থেকেই কাঠমান্ডু ও অন্যান্য শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন যুবসংগঠনের কর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং যেখানে বিক্ষোভ সবচেয়ে তীব্র, সেখানে জনসমাগম ও চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত রয়ে গেছে।


