বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
spot_img

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত, একদিনে নিহত ৫৩ ফিলিস্তিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজায় থামছে না ইসরায়েলি আগ্রাসন। স্থানীয় সময় রোববার ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় আরও অন্তত ৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জনই গাজা সিটির বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে গাজা সিটিতে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৬টি ভবন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি আবাসিক টাওয়ারও রয়েছে।

ইসরায়েল গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে অভিযান জোরদার করেছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে আরও দুজন অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছে। এ নিয়ে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২ জনে।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রেমাল পাড়ায় আল-কাওসার টাওয়ারে ইসরায়েলি বাহিনী মিসাইল হামলা চালায়। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ১০ তলা এই ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। টানা বোমাবর্ষণে ভয়ে হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি মারওয়ান আল-সাফি বলেন, “আমরা কোথায় যাব জানি না। আমরা এখানে মরছি। আমাদের সমাধান দরকার।”

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলের এ ধরনের পদ্ধতিগত বোমাবর্ষণের উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা ও নির্মূল করা। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করলেও বাস্তবে স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, তাবু ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার অফিসকে ধ্বংস করছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (আনরোয়া)-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক্সে পোস্ট করে বলেন, গত চার দিনে তাদের ১০টি ভবনে আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি স্কুল ও দুটি ক্লিনিক ছিল—যেখানে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। তিনি লিখেছেন, “গাজায় আর কোথাও নিরাপদ নয়। কেউই নিরাপদ নয়।”

তীব্র বোমাবর্ষণের কারণে আবারও হাজারো মানুষ দক্ষিণে আল-মাওয়াসির দিকে পালাচ্ছে। যদিও ইসরায়েল এটিকে নিরাপদ এলাকা ঘোষণা করেছে, সেখানেও বারবার হামলা চালানো হয়েছে।

বাস্তুচ্যুত আহমেদ আওয়াদ বলেন, “এখানে পানি নেই, টয়লেট নেই, কিছুই নেই। পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ।”

আরেকজন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আবেদআল্লাহ আরাম বলেন, “খাবারের মারাত্মক অভাব চলছে। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে। শীত আসছে, নতুন তাঁবু দরকার। এই এলাকায় আর কোনো পরিবার আসতে পারবে না।”

অন্য এক বাস্তুচ্যুত বলেন, “আমরা দুই বছর ধরে একটানা স্থান বদল করছি। ক্ষুধা ও যুদ্ধ দুটোই আমাদের শেষ করে দিচ্ছে। আমাদের আয় নেই, শিশুদের খাওয়াতে পারছি না। এই বাস্তুচ্যুতি শরীর থেকে আত্মা ছিঁড়ে নেওয়ার মতো কষ্ট দিচ্ছে।”

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, আল-মাওয়াসির পরিস্থিতি প্রতিদিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে। সংস্থার মুখপাত্র টেস ইংগ্রাম বলেন, “গাজায় কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়, এমনকি তথাকথিত মানবিক অঞ্চলও নয়।”

তিনি জানান, এক গর্ভবতী নারীকে গাজা সিটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় তিনি রাস্তার পাশে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হন। এমন অসংখ্য পরিবার রয়েছে যারা মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারছে না।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত