
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এক নারীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মৃত্যু হওয়ার ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। সোমবার, ৩ নভেম্বর, সকাল ৯টার সময় পটিয়ার মনসা বাদামতলের নয়াহাট শাহ আমানত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত নারীর নাম ফজিলাতুন্নেছা, বয়স ২৮ বছর। সে মাগুরা জেলার মহেশপুর থানার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম আলিমুজ্জামান সুজন। ফজিলাতুন্নেছা স্বামী ও শিশুসন্তানসহ মোটরসাইকেলে করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, নয়াহত এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ মোটরসাইকেলটির ব্রেক ফেইল করে এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যান। ফলে তিনজনই মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। দুর্ঘটনাস্থলেই ফজিলাতুন্নেছা গুরুতর আহত হন এবং তাঁর মৃত্যু হয়। অপর দুইজনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। পটিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট ওয়াসিম আরাফাত জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে এবং মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে তদন্তের পরে।
এদিকে, স্থানীয়রা জানান, এলাকার এই সড়কটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাস ও মোটা যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচল জোরালো হওয়ায় দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা তীব্রভাবে বেড়ে গিয়েছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য দাবি তুলেছেন। তারা বিশেষ করে ব্রেক সিগন্যাল, সড়ক সংকেত এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন।
শোকাদুর্ভাগ্যজনক এই ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা ব্যাপক শোকাহত। বিশেষত ওই নারীর ছোট শিশু আরেকটি বড় ঘর আলোকিত করে সিরাজগঞ্জের ওই পরিবারের জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যরা নিহতের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছেন এবং দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনও এ ঘটনার দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।
এই দুর্ঘটনার ঘটনা অনেককে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। যেখানে সামান্য অবহেলা বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সড়ক ব্যবহারকারীদের ধৈর্যশীল ও সতর্ক থাকার পাশাপাশি সকল যানবাহনের নিয়ম মেনে চলা একান্ত প্রয়োজনীয়। কারণ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার কথা কেবল পরিবারের নয়, সমাজের জন্যও এক গভীর ক্ষতি। তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং সবার সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব


