
নরসিংদীতে তীব্র ভূমিকম্পে জেলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে ক্ষতির মাত্রা বেশি দেখা গেছে। ভূমিকম্পের ফলে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমারে আগুন ধরে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। পাশাপাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সারকারখানার উৎপাদনও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার সকালে ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় সাবস্টেশনের ট্রান্সফরমারে আগুন লাগে এবং অপর ট্রান্সফরমারগুলোর অধিকাংশ সংযোগ ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি সাবস্টেশনের বিপুল পরিমাণ পিটি (প্রডাকশন ট্রান্সফরমার) ভূমিকম্পের তীব্রতায় ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পলাশ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুস সহিদ বলেন, “খবর পেয়েই আমাদের দুইটি দল পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পেই আগুনের সূত্রপাত, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
এদিকে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানার ইউরিয়া উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। ভূমিকম্পের সময় প্রবল কম্পনে ইঞ্জিন–মেশিনারিজে ভাইব্রেশন দেখা দিলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেশিনারিজ বর্তমানে চেকিং ও অপারেশন পর্যায়ে রয়েছে।ভূমিকম্পে সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ আসে প্রাণহানি থেকে। নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, “জেলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা সারাদিন আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছি। জেলা প্রশাসনের হটলাইন চালু করা হয়েছে, যেখানে ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের তথ্য সংগ্রহ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারি সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।


