
অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও উপদেষ্টাদের শপথ পাঠের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল–এর শুনানি শেষ হয়েছে। এখন আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগ।
বুধবার (০৩ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শোনার পর বেঞ্চ বৃহস্পতিবার আদেশ দেবেন বলে জানায়।
গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন। ওই অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের কাছে উপদেষ্টামূলক মতামত চান।সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে—রাষ্ট্রপতির নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে কোনো আইনি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা ভবিষ্যতে উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা জনগুরুত্বসম্পন্ন, তাহলে তিনি প্রশ্নটি আপিল বিভাগের বিবেচনায় পাঠাতে পারবেন। আপিল বিভাগ উপযুক্ত শুনানি শেষে সে বিষয়ে মতামত জানাতে পারবে।রাষ্ট্রপতির বিশেষ রেফারেন্স (১/২৪) গ্রহণ করে তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ গত বছরের ৮ আগস্ট মতামত প্রদান করে। মতামতে বলা হয়—রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা নিয়োগ দিতে পারবেন এবং তাদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন। মতামত ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ গত বছরের ডিসেম্বরে রিট করেন। সেই রিটের ওপর চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে দেন।রায়ে হাইকোর্ট বলেন—বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ‘কোনো আইনি দলিল নেই’—রিট আবেদনকারীর এই বক্তব্য সঠিক নয়। রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতামত চেয়েছেন এবং সেই মতামতের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই এ ব্যবস্থা আইনি দলিল দ্বারা সমর্থিত এবং “২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনও এতে রয়েছে।” আদালত রিটকে ভ্রান্ত ধারণা, বিদ্বেষপ্রসূত ও হয়রানিমূলক উল্লেখ করে সরাসরি খারিজ করে দেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চাইতে (লিভ টু আপিল) আবেদন করেন রিট আবেদনকারী মহসিন রশিদ। তাঁর পক্ষের আইনজীবী মঙ্গলবার যুক্তি উপস্থাপন করেন।এরপর ইন্টারভেনার হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের তিন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। লেখক ফিরোজ আহমদের পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। পাশাপাশি ইন্টারভেনার হিসেবে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মোহাম্মদ শিশির মনিরও আদালতে বক্তব্য রাখেন।সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আপিল বিভাগ বুধবার শুনানি শেষ করে। আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করা হয়।


