শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
spot_img

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা কলেজ এলাকায় বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিলের কারণে সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট অঞ্চলে যান চলাচলে সাময়িক স্থবিরতা দেখা দেয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন। এরপর দুপুর ১টার দিকে মিছিলটি ঢাকা কলেজ থেকে বের হয়ে সায়েন্সল্যাব মোড় প্রদক্ষিণ করে ইডেন মহিলা কলেজের সামনে যায়। সেখান থেকে আবার ঢাকা কলেজের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। দীর্ঘ সময় সড়ক আটকে থাকা ও শিক্ষার্থীদের স্লোগান–ব্যানারে পুরো এলাকা সরব হয়ে ওঠে।আন্দোলনকারীরা জানান, সাত কলেজকে একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দীর্ঘদিনের দাবি। প্রস্তাবিত খসড়ায় ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের যে কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য অধ্যাদেশ জারি ছাড়া কোনো পথ নেই।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, “অধ্যাদেশ ছাড়া আমাদের প্রশাসনিক কাঠামো চূড়ান্ত হচ্ছে না, পরীক্ষা নেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, ডিগ্রির স্বীকৃতিও অনিশ্চয়তার মধ্যে। আমরা তো প্রতিদিন ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”আরেকজন আন্দোলনকারী বলেন, “যে খসড়া আইন নিয়ে বারবার অংশীজনদের সঙ্গে সভা হয়েছে, তা অনুমোদনের জন্য অনেকটাই প্রস্তুত। এখন বিলম্ব শুধু আমাদের পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারকে বিপর্যস্ত করছে।”জানা যায়, সাত কলেজের সমন্বয়ক বিশ্ববিদ্যালয় গঠন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার প্রক্রিয়া চলে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।

এরপর ২০–২১ অক্টোবর এবং ১৭ নভেম্বর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী (অ্যালামনাই) ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় খসড়া আইন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে। আলোচনায় পরীক্ষার কাঠামো, উপাচার্য নিয়োগ পদ্ধতি, ক্যাম্পাস স্থাপন, স্বশাসন, গবেষণা সুযোগ—সবকিছুই বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়।অংশীজনদের মতে, এসব প্রক্রিয়া শেষে অধ্যাদেশ জারি হওয়াই পরবর্তী পদক্ষেপ, যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু এখনো সেই সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দাবি কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক নয়; এটি পুরো সাত কলেজের প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের প্রশ্ন।বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা জানান, প্রয়োজন হলে তারা পরবর্তী সময়ে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচিও দিতে পারেন।এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা চাই—অধ্যাদেশ দ্রুত জারি হোক। এতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে, প্রশাসন স্থাপন হবে, আমাদের শিক্ষাজীবনও স্বাভাবিক হবে।”বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা আন্দোলন আরও বিস্তৃত করতে বাধ্য হবেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত