
বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল তাদের ছাত্র সংগঠনের জন্য প্রশ্নফাঁস করে না—একটি দল ছাড়া। কোনো শিক্ষক প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব পেয়ে সেই প্রশ্ন দলীয় লোকদের সরবরাহ করে না—একটি দল ছাড়া। আমরা প্রায়ই আর্থিক দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কিংবা লুটপাটের কথা বলি, কিন্তু রাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়ংকর দুর্নীতিগুলো নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়।রাজাকাররা কতটা অসৎ ও কতটা গভীরভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত—তা খুব অল্প মানুষই জানে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও এরশাদ—এই তিন দলই দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ শাসন করেছে। তাদের ভুল-ত্রুটি অনেক, কিন্তু কেউই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং, মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং, মগজধোলাই কোচিং কিংবা গুপ্ত মেসের মতো একাডেমিক রঙে রাজনৈতিক কোচিং সেন্টার চালু করেনি। এসবই রাজাকারদের আবিষ্কার।বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে কেউ রাজাকার হয় না; বরং স্কুল, মাদ্রাসা, কোচিং ও কলেজ পর্যায় থেকেই মগজধোলাই হয়ে রাজাকারি চেতনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। কোনো ছাত্র রাজাকার হিসেবে দীক্ষা নিলেই তার হাতে ‘শর্ট সাজেশন’-এর নামে প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। গত ১৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এসেছে।
সুতরাং গোঁড়ায় হাত না দিয়ে আগায় পানি ঢেলে লাভ নেই। সব রাজাকার কোচিং সেন্টার ও গুপ্ত মেস গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এগুলোই রাজাকার তৈরির পাইপলাইন ও সাপ্লাই চেইন। ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের এমন কোনো সাপ্লাই চেইন নেই। ক্ষমতায় থেকেও তারা যে এই নষ্ট সংস্কৃতি চালু করেনি—সে জন্য তাদের ধন্যবাদ প্রাপ্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসসহ প্রশ্ন ছাপানোর সঙ্গে যুক্ত সব প্রেসে থাকা রাজাকারদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, মেডিক্যাল ভর্তি, বিসিএস, ব্যাংকসহ অসংখ্য পরীক্ষার প্রশ্ন দলীয়ভাবে ফাঁস করে নিজেদের লোক ঢোকানো হচ্ছে। এরা চোরাই ঘুণপোকার মতো রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে খেয়ে ফেলছে।প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে রাজাকার শিক্ষক-কর্মচারীদের শনাক্ত করতে হবে। সামান্য সন্দেহ হলেই কার্যক্রম নজরদারিতে আনতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের সব স্তরে লুকিয়ে থাকা রাজাকারদের প্রকাশ্যে আনতে হবে। আজ ক্ষমতা না থাকায় তারা বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারছে না। কিন্তু শক্তি সঞ্চয় হলে প্রথম আঘাতই যাবে বিএনপির ওপর। শেখ মুজিবের নাম কেটে হলের নাম পরিবর্তনের ঘটনা ভবিষ্যতে জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রেও ঘটবে—শক্তি পেলে।
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণে বিএনপিকে জরুরি কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। এসএসসি/দাখিল বা এইচএসসি/আলিমের জিপিএ’র ওপর অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ওভারমার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে রাজাকাররা নিজেদের লোক এগিয়ে দিচ্ছে।আমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা বন্ধ করার কথা বলছি না। বরং তাদেরকে উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করে উচ্চশিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। দরিদ্র ও এতিম শিশুরা রাজাকারদের সবচেয়ে সহজ টার্গেট। রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে আবাসিক এতিমখানা ও বিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো ছাত্র আর্থিক অসহায়ত্বের সুযোগে এক্সপ্লয়েট না হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়েরই হওয়া উচিত। তথাকথিত দানশীল ফাউন্ডেশনগুলোর উদ্দেশ্য ও অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। বিএনপি ও ছাত্রদলকে এসব বিষয়ে এখনই ভাবতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি জাতীয় বৃত্তি তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকলো—শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য।
মোঃ সোহেল তালুকদার
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা


