
সমাজে নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে যত কথাই বলা হোক, বাস্তবে পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি—এমনই মন্তব্য করেছেন বলিউডের বরেণ্য ও স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। তার মতে, আধুনিকতার দাবির মাঝেও ভারতীয় সমাজে এখনো পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্য গভীরভাবে প্রোথিত।
সম্প্রতি শুভঙ্কর মিশ্রার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “ভারতীয় সমাজে এখনো ‘কুমারী কনে’ পাওয়া অনেক পুরুষের কাছে বড় বিষয়। পুরুষরা স্ত্রী হিসেবে কুমারী কনেই চায়।”
সঞ্চালক যখন প্রশ্ন করেন, বর্তমান সময়ে এসেও এই বিষয়টি কতটা প্রাসঙ্গিক, তখন নীনার সাফ জবাব, “এখন কী বদলেছে? আপনি কি ভারতের কথা বলছেন? কে বলেছে, মানুষ খুব উদার হয়েছে? আমাদের দেশে অনেক কিছুই বদলায়নি।”
সমাজের তথাকথিত আধুনিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এখনো নারীরা মাথায় আঁচল দিয়ে শ্বশুরের পা ছুঁয়ে প্রণাম করে। আপনি আর আমি সংখ্যালঘু, আমরা আসল ভারতীয় নই। আমরা যারা ভালো পোশাক পরি, সুন্দর করে কথা বলি—তারাই পুরো ভারত নয়।”
নিজের বক্তব্যের পক্ষে পারিবারিক উদাহরণও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, তার এক আত্মীয়ের মেয়ে মুম্বাইয়ে শ্বশুরবাড়িতে নিজের পছন্দের সাই বাবার ছবি রাখতে পারেননি শাশুড়ির আপত্তির কারণে; তাকে বাধ্য করা হয় শ্বশুরবাড়ির গুরুর ছবি রাখতে। একইভাবে, তার ভাতিজিকেও শাশুড়ি নিজের পরিবারের ছবি বিছানার পাশের টেবিলে রাখতে দেননি।নীনা বলেন, “দেশে নারীদের অবস্থার পরিবর্তন আনতে আমাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ‘সাথ সাথ’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন নীনা গুপ্তা। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি আলোচনায় ছিলেন। আশির দশকে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস–এর সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ১৯৮৯ সালে বিয়ে ছাড়াই কন্যা সন্তানের জন্ম নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ২০০৭ সালে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক মেহরাকে বিয়ে করেন তিনি।


