
সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে সরকার পরিচালনা, শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়, রাষ্ট্র সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় কয়েকজন শরিক নেতা সরকার পরিচালনায় সমন্বয়ের ঘাটতি, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শরিকদের সম্পৃক্ত না করার বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট মোকাবিলা ছিল সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি ভবিষ্যতে শরিকদের সঙ্গে আরও নিয়মিত মতবিনিময় এবং আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
অন্যদিকে জেএসডি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম আমন্ত্রণ পেলেও বৈঠকে অংশ নেয়নি। জেএসডি জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আগে পৃথক রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেওয়া তাদের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের স্মৃতিচারণায় বৈঠকে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় এবং শরিক দলগুলো ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান আইনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায় এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


