মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬
spot_img

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবাদযোগ্য সব জমি চাষের আহ্বান জেলা প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি ও মৎস্য খাত দ্রুত পুনরুদ্ধারে আবাদযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, “এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না। যে জমি আছে, সেখানে ফসল, সবজি কিংবা ফুল—কিছু না কিছু আবাদ করতেই হবে।”

শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পেলাগাজী দিঘির মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের মাঝে সবজির বীজ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে সহায়তা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ জন কৃষকের মধ্যে শসা, চালকুমড়া, লাউ, কলমি ও বেগুনের বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৭০টি পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি লবণ এবং ২৫০ গ্রাম করে হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন মসলা বিতরণ করা হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকদের দ্রুত চাষাবাদে ফিরিয়ে আনতেই বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি কৃষকদের দ্রুত বীজ বপন ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, বন্যার কারণে চাষাবাদ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও বাড়তি পরিশ্রম ও আন্তরিকতার মাধ্যমে কৃষকেরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী না করতে সরকার কৃষি ও মৎস্য খাত পুনরুদ্ধারে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি, ফসল ও মৎস্য খাত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে শুকনা খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। এখন কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারে বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতিতে কৃষকদের অবদানের কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষক, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক এবং প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।ফটিকছড়িকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবজি উৎপাদন এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার উৎপাদিত শাকসবজি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এই উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে জেলা প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. জুনায়েত কাউছার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, উপকারভোগী কৃষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত