
ঢাকা, ৩ আগস্ট: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ছিল ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত ইপিবির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, নিট পোশাকের তুলনায় ওভেন পোশাক রপ্তানিতে বেশি পতন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাই মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে নিট পোশাক রপ্তানি কমেছে মাত্র ০ দশমিক ৯০ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পোশাক রপ্তানিতে ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, যা ছিল অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ। ফলে সেই উচ্চ ভিত্তির বিপরীতে চলতি বছরের একই মাসে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ছিল কঠিন। এ কারণে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তারা মনে করছেন।এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাক শিল্প বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকট এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি।
এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এক মাসে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা যায়।তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বিজিএমইএ কর্তৃক সম্পাদিত ইউডি (Utilization Declaration) প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানিতে স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা প্রদান করা গেলে আগামী মাসগুলোতে আবারও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


