
গ্যাসের জাতীয় চাহিদার বড় একটি অংশ সরবরাহ করে ‘গ্যাসের জেলা’ হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া। জেলার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২২টি সচল কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ থেকে ৩৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ গ্যাস উৎপাদনকারী এই জেলাতেই এখন তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা মাত্র ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এরপরও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যার প্রভাবে বাসাবাড়ি, ফিলিং স্টেশন ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরের পর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্যাসের অভাবে অনেক বাসাবাড়িতে মাটির চুলায় রান্না করা হচ্ছে। কোথাও আবার সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিছু এলাকায় অল্প পরিমাণে গ্যাস থাকলেও চাপ এতটাই কম যে ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না।শহরের টেংকের পাড় এলাকার বাসিন্দা রুনা দাস জানান, বুধবার সকাল ১১টার পর থেকেই তাদের বাসার গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর গ্যাস না আসায় বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।
একই এলাকার রানী দাস বলেন, গ্যাস না থাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এভাবে রান্না করা অত্যন্ত কষ্টকর। তার প্রশ্ন, যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, সেই জেলাতেই কেন গ্যাস পাওয়া যাবে না?কাজীপাড়ার বাসিন্দা ইয়াদে রিবা পাপিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম ছিল। এর মধ্যে গত দুই দিন ধরে গ্যাস একেবারেই নেই। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে সিলিন্ডার কিনে রান্না করতে হচ্ছে। দ্রুত সংকট সমাধানের দাবি জানান তিনি।
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনচালকেরাও। জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে গত বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার পর শুক্রবার থেকে কার্যত সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক চালককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।সিএনজি না পেয়ে অনেক অটোরিকশাচালক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড রুটের অটোরিকশাচালক জনি মিয়া জানান, আগে এ রুটে শেয়ারভাড়া ছিল ৫০ টাকা। গ্যাস সংকটের কারণে ৭০ টাকা ভাড়া নিতে হচ্ছিল। এখন এলপিজি ব্যবহার করায় ভাড়া ৯০ টাকা নিতে হচ্ছে।অন্যদিকে কুমারশীল মোড় থেকে নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরীতে যেতে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে অটোরিকশা পেয়েছেন মেহেদী নামে এক যাত্রী। নিয়মিত ভাড়া ৪০ টাকা হলেও চালক প্রথমে ৮০ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষি করে ৭০ টাকায় যাত্রা করেন তিনি।
ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে যানবাহনে গ্যাস দিতে না পারায় স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অথবা সোমবার গ্যাস সরবরাহ করতে পারে বলে তাদের জানানো হয়েছে।গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানাতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জেলার বিসিক শিল্পনগরীর জিআই তার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান খলিল-বশির ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক মো. গোলাম ছাদেক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। এখন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই টন তার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিদিন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক জানান, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কবে নাগাদ সংকট কাটবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি।তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক পর্যায়ে পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আবাসিক পর্যায়েও কিছু এলাকায় সামান্য গ্যাস থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় সরবরাহ নেই।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কমে গেছে। এর প্রভাবে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিতরণ এলাকার


