বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

মৎস্যসম্পদ ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলাশয় রক্ষায় শুধু মৎস্যজীবী নয়, সব নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত আলোচনা সভায় তাঁরা এ আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘রুপালি মাছে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে দেশের নদী ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারেন্ট জালের ব্যবহারে মাছের বিভিন্ন প্রজাতি ও পোনা ধ্বংস হচ্ছে। প্রাকৃতিক উৎসের মাছ ও পরিবেশ রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশের মৎস্যসম্পদ বড় সংকটে পড়বে।হালদা নদী ছাড়া দেশের অধিকাংশ নদী অসুস্থ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন মৎস্যজীবীরা। তাই মৎস্যসম্পদ ও প্রতিবেশ রক্ষায় তাঁদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য উৎপাদনের বড় অংশ এখন চাষের মাছ থেকে আসে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রয়োজন। মৎস্যজীবীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত মাছ বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে হবে।নীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো সীমিত উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সমুদ্রের বিপুল সম্পদ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু সম্পদ আহরণ নয়, সম্পদ পুনরুদ্ধার ও পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে চট্টগ্রাম জেলার ২৭ হাজার ৬৩১ জনকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো ভুয়া ব্যক্তি যাতে সুবিধা না পান, সেজন্য প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করতেও মৎস্যজীবীদের ভূমিকা রাখতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচি শুধু আলোচনা সভা ও র‍্যালির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, একসময় দেশের মিঠাপানির মাছের যে স্বাদ ও বৈচিত্র্য ছিল, তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। দখল, দূষণ ও আবর্জনার কারণে পুকুর, খালসহ বিভিন্ন জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবশিষ্ট জলাশয়গুলো রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, গত ২৬ জুলাই থেকে এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। এর ধারাবাহিকতায় পুকুর পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সরকারি-বেসরকারি পুকুরগুলো পরিষ্কার করা হবে। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক নিজ উদ্যোগে পুকুর পরিষ্কার করেছেন।জেলা প্রশাসক বলেন, পুকুরগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে সেখানে মাছ চাষ করা যায় এবং শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে সাঁতার কাটতে পারে। শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি বিভাগের উদ্যোগে সমাজের পরিবর্তন সম্ভব নয়; প্রত্যেক নাগরিককে এ উদ্যোগে যুক্ত হতে হবে।মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, জ্ঞান ও দক্ষতার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ৫০ বছর আগের পদ্ধতি দিয়ে বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। মাছের উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগও সম্প্রসারণ করতে হবে।

এ সময় মৎস্যজীবীদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আকবর আলী ঘাটের জেলেপল্লিতে ইতোমধ্যে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।আলোচনা সভা শেষে সার্কিট হাউস থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। পরে নগরের লালদীঘি পুকুরে ২০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।অনুষ্ঠানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত