শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
spot_img

ত্রাণের পর চিকিৎসাসেবা, বান্দরবানে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থা গো আপ ফাউন্ডেশন। প্রথম ধাপে পাহাড়ি এলাকার ৭৫৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পর এবার দ্বিতীয় ধাপে আয়োজন করা হয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম। ফুটস্টেপস বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইউনিসেফের দেওয়া হাইজিন কিট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি এরিস্টো ফার্মার সহযোগিতায় বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৩০০ পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়। বন্যা-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বান্দরবানের অনেক বাসিন্দা। এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। প্রায় ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী ও দুইজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় এ মানবিক কার্যক্রম। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ওষুধ দেওয়া হয়। কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “বন্যার শুরু থেকে আমরা যেভাবে আপনাদের পাশে আছি, ঠিক সেভাবেই পুনর্বাসন পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকব।” তিনি বলেন, বন্যায় যেসব পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে গেছে, সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের মাঝে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বন্যার পানিতে যেসব শিক্ষার্থীর বই-খাতা নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এতে বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে তাদের মাঝে মাল্টি কার্ট বিতরণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়। গো আপ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়। এ মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেছে। মেডিকেল ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী এক চিকিৎসক বলেন, “বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে অনেক রোগী আমাদের কাছে এসেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি প্রত্যেককে যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে।” স্বেচ্ছাসেবী জাহিদ বলেন, “আমরা যখন প্রথম বান্দরবানে পৌঁছাই, তখন পরিস্থিতি ছিল খুবই কঠিন। কিন্তু আমাদের পুরো টিম রাত-দিন এক করে কাজ করে গেছে—খাবার প্যাকেজিং থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, মেডিকেল ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত। মানুষের মুখে যখন একটু স্বস্তি দেখি, তখন সব ক্লান্তি ভুলে যাই।”

তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও ফুটস্টেপস বাংলাদেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বেচ্ছাসেবী সানজিদা বলেন, “বন্যার্ত মানুষের কষ্ট সরাসরি দেখে আমরা আরও দায়িত্ববোধ অনুভব করেছি। গো আপ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।” গো আপ ফাউন্ডেশন জানায়, শিগগিরই দ্বিতীয় ধাপে আরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তালিকাভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষি সহায়তা, স্যানিটেশন, শিক্ষা উপকরণ ও জীবিকার সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংস্থাটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত