রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
spot_img

‘নিজেকে ধ্বংস করে অন্যকে বাঁচানো যায় না’- জিনাত আমান

বিনোদন ডেস্ক:

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জিনাত আমান নিজের দাম্পত্য জীবন, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। অভিনেতা মাজহার খানকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১২ বছরের সেই দাম্পত্য জীবনের নানা অভিজ্ঞতার দিকে এখন অনেক বেশি সহানুভূতির সঙ্গে ফিরে তাকান অভিনেত্রী।সম্প্রতি ‘বিটুইন আস বাই অনামিকা’ অনুষ্ঠানে ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জিনাত বলেন, তিনি যখন এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন ছিলেন তরুণী। সে সময় নিজের বিশ্বাস ও চাওয়ার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।জিনাতের মতে, জীবনের কিছু সিদ্ধান্ত ভালো ছিল, আবার কিছু সিদ্ধান্ত ভালো ছিল না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতীতের দিকে ফিরে তাকিয়ে নিজেকে দোষারোপ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রয়োজন নেই।

১৯৮৫ সালে অভিনেতা মাজহার খানকে বিয়ে করেন জিনাত। তাঁদের দুই ছেলে—আজান ও জাহান। অভিনেত্রী জানান, বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তখন তিনি বিশ্বাস করতেন, পরিবার গড়ে তোলার পথ হলো বিয়ে।তবে পরবর্তী সময়ে সেই সম্পর্ক তাঁকে ভালোবাসা ও আত্মবিসর্জনের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করেছে বলে জানান জিনাত। তিনি বলেন, সন্তান ও দেওয়া প্রতিশ্রুতির কারণে দীর্ঘদিন সম্পর্কটি ধরে রেখেছিলেন এবং আশা করেছিলেন পরিস্থিতি একসময় বদলে যাবে।

শেষ পর্যন্ত তাঁর উপলব্ধি হয়, ‘নিজেকে ধ্বংস করে অন্য কাউকে বাঁচানো যায় না।’বলিউডে পরকীয়ার ঘটনা বেশি ঘটে কি না—এমন প্রশ্নেরও জবাব দেন জিনাত। তাঁর মতে, পরকীয়া শুধু চলচ্চিত্রজগতের সমস্যা নয়; এটি মানুষের একটি দুর্বলতা। তবে বিনোদন জগতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক সময় প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যের হৃদয়ভাঙাকে গসিপে পরিণত করে কারও লাভ হয় না বলেও মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বর্তমানে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।মাজহার তাঁর সন্তানদের বাবা হওয়ায় তাঁকে নিয়ে কোনো অসম্মানজনক মন্তব্য করতে চান না বলেও স্পষ্ট করেছেন জিনাত। এর আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁদের দাম্পত্যে পরকীয়া ও মাজহারের প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরতার বিষয় উঠে এসেছিল।জিনাত আমান ১৯৭১ সালের ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। এর আগে তিনি ‘মিস এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল’ খেতাব অর্জন করেন এবং ভারতীয় নারীদের মধ্যে এই আন্তর্জাতিক খেতাবজয়ী প্রথম নারী হিসেবে পরিচিতি পান।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত