
স্পোর্টস ডেস্ক:
ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের শুরুতেই বার্সেলোনাকে চাপে ফেলে দিয়েছিল রায়ো ভায়েকানো। তবে সেই চাপ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার জোড়া গোলে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ গোলে হারিয়ে লা লিগায় টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বার্সার জন্য ছিল হতাশার। ১২ মিনিটে সের্হিও ক্যামেলোর গোলে এগিয়ে যায় রায়ো ভায়েকানো। গোল হজমের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় হান্সি ফ্লিকের দল। ১৯ মিনিটে রাফিনিয়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। মাত্র দুই মিনিট পর ২১ মিনিটে গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন লামিনে ইয়ামাল।
এই গোলের মাধ্যমে দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে স্পেনে পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে অফিশিয়াল ক্লাব প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ৫০তম গোলের দেখা পান তিনি।
এই রেকর্ড গড়ার পথে ইয়ামাল পেছনে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা রাউল গঞ্জালেসকে। ১৯ বছর ২৪৯ দিন বয়সে ৫০ গোল করেছিলেন রাউল। আর আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা ফার্নান্দো তোরেস এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ২০ বছর ২২১ দিন বয়সে। বার্সেলোনার হয়ে এত দিন এই রেকর্ডটি ছিল প্রয়াত সাবেক ফরোয়ার্ড জোসেফ এসকোলার দখলে। ১৯৩৫ সালের ২০ অক্টোবর কাতালান আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে ২০ বছর ৩৫৬ দিন বয়সে নিজের ৫০তম গোল করেছিলেন তিনি।
বার্সার আরেক কিংবদন্তি লিওনেল মেসি কাতালান ক্লাবটির হয়ে ৫০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ২১ বছর ১২০ দিন বয়সে। শুধু স্পেনেই নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়েও ইয়ামালের এই অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর আগে কিলিয়ান এমবাপ্পে ১৯ বছর ২৪১ দিন বয়সে এবং আর্লিং হলান্ড ২০ বছর ১৯৬ দিন বয়সে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সেলোনার দাপট অব্যাহত থাকে। ইয়ামাল ও রাফিনিয়া নিজেদের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় আরও নিশ্চিত করেন। এর মাঝে রায়ো ভায়েকানোর ডিফেন্ডার ফ্লোরিয়ান লেজেউনের আত্মঘাতী গোল বার্সার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। রায়ো ভায়েকানো অবশ্য হাল ছাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধে ক্যামেলো নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমান। তবে শেষ পর্যন্ত বার্সার আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি তারা। ৫-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি।
এই জয়ে টানা তিন ম্যাচ জয় পেল বার্সেলোনা। এই তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মোট ১২ গোল করেছে ফ্লিকের দল। অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচ জয়হীন রায়ো ভায়েকানোকে ফিরতে হয়েছে বড় হার নিয়ে। বার্সেলোনার হয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৪ ম্যাচে ৫১ গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল। এর মধ্যে ১২৬ ম্যাচে তিনি ছিলেন দলের শুরুর একাদশে। সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও ৪৫টি। অর্থাৎ বার্সার হয়ে মোট ৯৬টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে এই তরুণ তারকার। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামালের এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে এই স্প্যানিশ তারকা যে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠছেন, রায়োর বিপক্ষে ম্যাচটিও যেন তার আরেকটি প্রমাণ।


