শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
spot_img

নদীভাঙনে নিঃস্ব উড়িরচরের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি:
নদীভাঙনের ভয়াবহতায় দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উড়িরচর। মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন দীর্ঘদিন ধরে এই চরাঞ্চলে বসবাস করে আসা বহু পরিবার। বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা উড়িরচরের মানুষের কাছে বর্ষা ও জোয়ার যেন নতুন আতঙ্কের নাম। কখন নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনে শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যাবে—এমন শঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীর ভাঙন প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। নদীর তীব্র স্রোতে কোথাও বসতভিটার অংশ ধসে পড়ছে, আবার কোথাও ফসলি জমি ও চলাচলের রাস্তা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কেউ হারিয়েছেন পৈতৃক সম্পত্তি, কেউ হারিয়েছেন আবাদি জমি; আবার অনেকের জীবিকার প্রধান অবলম্বনও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে উড়িরচরের মানুষের জীবনযাত্রায়ও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবসতিও রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী দিনে উড়িরচরের আরও বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। ভাঙন দেখা দিলে সাময়িকভাবে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। ফলে ভাঙন থামার আগেই অনেক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা এলেই আমাদের ভয় হয়। নদী কখন ঘরের সামনে চলে আসে, কখন জমি ভেঙে নিয়ে যায়—কিছুই বলা যায় না। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্য জায়গায় চলে গেছেন। আমরা চাই স্থায়ীভাবে নদীভাঙন বন্ধের ব্যবস্থা করা হোক।’

আরেক বাসিন্দা জানান, শুধু বসতভিটা রক্ষা নয়, উড়িরচরের মানুষের জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতেও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে এখানকার মানুষের জন্য ভবিষ্যতে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

এলাকাবাসী আরও বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। শুধু ভাঙন প্রতিরোধ নয়, ইতোমধ্যে যারা ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়েছেন তাদের জন্যও কার্যকর পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজন। উড়িরচরের মানুষের মতে, নদীভাঙন এখন আর শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয় নয়; এটি তাদের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তাই জনপদটি রক্ষায় দ্রুত, সমন্বিত ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া না হলে একসময় উড়িরচরের মানচিত্র আরও সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত