রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
spot_img

বিপ্রবিতে ২৯ নিয়োগ থেকে ১৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প—উঠছে নানা প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমানের দায়িত্বকালীন নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, উন্নয়নকাজ ও আর্থিক ব্যয় নিয়ে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে। ২৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার নিয়োগ থেকে শুরু করে ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দফায় ২৯ জন শিক্ষক ও ৮ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব নিয়োগে বিধি, যোগ্যতা, মূল্যায়ন ও নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম যথাযথ ছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া প্রশাসনিক ভবনের সম্প্রসারণ ও ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের টেন্ডার, ব্যয় ও কার্যাদেশ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাবিপ্রবি স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত অনুমোদিত ব্যয় ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পে বাস্তবে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ফলে অনুমোদিত ব্যয় ও প্রকৃত অর্থছাড়-বিশেষ করে কত টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে—তা নিয়ে নথিভিত্তিক যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থী বহিষ্কার, সরকারি গাড়ি ও ভ্রমণ ব্যয়, প্রশাসনিক পদায়ন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অডিট রিপোর্ট, বিল-ভাউচার, ই-জিপি নথি, কার্যাদেশ, সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন। ইউজিসির ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের পর্যবেক্ষণেও রাবিপ্রবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন ও শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে অসামঞ্জস্যতার বিষয় উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে রাবিপ্রবির প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল গফুর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাবেক উপাচার্যের আমলের নিয়োগ, পদোন্নতি, উন্নয়নকাজ, আর্থিক ব্যয় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেরও তদন্ত দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে সাবেক উপাচার্য ড. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, তিনি অভিযোগের বিস্তারিত জানেন না। ১০ শিক্ষার্থী বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্তে হয়েছে এবং তার আগে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক ভবনের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি কমিটি গঠন করে বিভিন্ন পক্ষকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে রাবিপ্রবির নিয়োগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

দ্বিতীয় পর্বে: নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম, প্রকল্পের অর্থছাড় ও ব্যয়ের নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং আবদুল গফুরকে ঘিরে ওঠা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত