
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুর খবর ও এআই-নির্ভর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার একমাত্র মেয়ে তানি লায়লা। তিনি জানিয়েছেন, তার মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তানি লায়লা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রুনা লায়লাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর ও ভিডিও নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তানি জানান, সামান্য অর্থ উপার্জনের আশায় কিছু ব্যক্তি রুনা লায়লাকে নিয়ে ভুয়া পোস্ট, এআই দিয়ে তৈরি ইউটিউব ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তিনি বিরক্ত ও অতিষ্ঠ বলেও উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য, রুনা লায়লা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন। তিনি মারা যাননি এবং মৃত্যুর সঙ্গেও লড়ছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন তানি।মায়ের মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে তানি বলেন, রুনা লায়লা তার জীবনের ছয়টি দশক সংগীতের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। এরপরও তাকে নিয়ে এভাবে অসম্মানজনক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার।এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে নিজেই একে একে রিপোর্ট করার কথা জানিয়েছেন তানি। পাশাপাশি রুনা লায়লার ভক্ত ও অনুসারীদেরও ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার আহ্বান জানান তিনি।গণমাধ্যমের প্রতিও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তানি লায়লা। রুনা লায়লাকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে রুনা লায়লাকে নিয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর ঘটনা এ বছরই নতুন নয়। গত মে মাসেও দিল্লিতে একটি পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। তখন রুনা লায়লা নিজেই বিষয়টি গুজব বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।সাম্প্রতিক সময়েও সংগীতের বিভিন্ন আয়োজনে সক্রিয় রয়েছেন রুনা লায়লা। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার দুটি অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত দুটি কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত একক গানের অনুষ্ঠানেও অংশ নেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
সূত্র: বিডিনিউজ২৪, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার


