শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
spot_img

জমি বিরোধে শিশুহত্যা, পঙ্কজ শীল হত্যা মামলায়ও মিলল অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সংঘটিত দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে উভয় ঘটনায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুন পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহান তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. জায়হান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পটিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) শিশুটিকে উদ্ধারে যৌথ অভিযান শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে শিশুটির পরিবারের বসতঘর থেকে মুক্তিপণ দাবি ও হুমকিমূলক একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটের হাতের লেখা, সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন আলামত এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। পরে প্রতিবেশী সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯)-কে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ জুন রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে তাদের বসতঘরের পেছনের নর্দমার ময়লার মধ্যে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ৯ জুন পটিয়ার চক্রশালা এলাকায় সংঘটিত পঙ্কজ শীল হত্যা ও তিলক চক্রবর্তীকে হত্যাচেষ্টা মামলারও রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, একটি সড়কে সন্দেহজনকভাবে অবস্থানরত এক নারী ও এক পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পঙ্কজ শীল ও তিলক চক্রবর্তীর ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত পঙ্কজ শীলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিলক চক্রবর্তী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে। পরবর্তীতে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ১৭ জুন টেকনাফ থেকে মো. আব্দুল রহমান (২৩) এবং ১৮ জুন চন্দনাইশ থেকে ফাতেমা বেগম নেহা (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ঘটনার সময় তাদের পরিহিত পোশাকও জব্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে দুটি আলোচিত ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত