
শিগগিরই বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস)। এর মাধ্যমে মোবাইল ওয়ালেট, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান একক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে দ্রুত, সহজ ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করতে পারবে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে প লি সি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও গেটস ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে আন্তঃসংযোগযোগ্য পেমেন্ট সিস্টেম অপরিহার্য। এটি চালু হলে সরকারি ভাতা, ভর্তুকি ও বেতন সরাসরি জনগণের হাতে পৌঁছাবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।”
গভর্নর আরও জানান—
দেশে এখনও ৩৫–৪০% মানুষ আনুষ্ঠানিক আ র্থি ক ব্যবস্থার বাইরে।
প্রকৃত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির জন্য মাই ক্রোক্রেডিট খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে।
প্রায় ২০ হাজার এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে, তবে ঋণ বিতরণ আরও বাড়াতে হবে।
অন্তত ৫০% এজেন্ট নারী হলে ঘরে ঘরে আর্থিক সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) ন্যানো লোনের সীমা ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে ব্যবসায়ীদের জন্য ‘বাংলা কিউআর কোড’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
নগদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি।
তিনি আরও জানান, ডিজিটাল ব্যাংক চালুর প্রস্তুতি চলছে এবং এবার গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরীক্ষিত প্ল্যাটফর্ম ‘মোজালুপ’ ব্যবহার করে আইআইপিএস বাস্তবায়ন করা হবে।
আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে বর্তমানে ২০ কোটিরও বেশি এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকলেও অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এখনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার বাইরে। গ্রামীণ-শহর বৈষম্য, লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধান এবং সেবা প্রদানকারীর সীমিত আন্তঃসংযোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় বাধা।
তারা উদাহরণ টেনে বলেন, তানজানিয়া, পাকিস্তান ও রুয়ান্ডায় এ ধরনের সিস্টেম চালুর ফলে খরচ কমেছে, দক্ষতা বেড়েছে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও বেড়েছে।
শেষে চারটি অগ্রাধিকার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়:
১. বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ
২. বাংলাদেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্মে ঐকমত্য গঠন
৩. ন্যায্য প্রতিযোগিতার জন্য নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালীকরণ
৪. আইআইপিএস বাস্তবায়নের রোডম্যাপ প্রণয়ন
বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে না, বরং জি-২০ আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট রোডম্যাপ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।


