বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০২৬
spot_img

ছয় মাসে বন্ধ ১ হাজার ৩৩১টি অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্ন সাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ছয় মাসে অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি বিষয়ক ১ হাজার ৩৩১টি পোর্টাল বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ‘অনলাইন জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধে করণীয়’ বিষয়ে এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান তিনি।

সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মোবাইল অপারেটর এবং মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, বিভিন্ন ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিদেশে অর্থ পাচারসহ তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও বিটিআরসির সহযোগিতায় চলতি বছরের মে মাস থেকে ৪ হাজার ৮২০টি এমএফএস অ্যাকাউন্ট এবং ১ হাজার ৩৩১টি পোর্টাল বন্ধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “জুয়ার অর্থ লেনদেনকারী অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যেসব সাইটে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোও বন্ধ করা হবে। তবে একটি সাইট বন্ধ করলে অপরাধীরা দ্রুত নতুন সাইট খুলে ফেলে। তাই প্রযুক্তিগতভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

তিনি মোবাইল অপারেটরদের প্রতি পপ-আপ বিজ্ঞাপন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ট্রাফিক ক্লাসিফায়ার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পপ-আপ ব্লক করার পরামর্শ দেন। এছাড়া এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অ্যাকটিভ ক্রলার’ ব্যবহার করে জুয়া ও বেটিং সনাক্ত করার আহ্বান জানান।

সভায় জানানো হয়, নভেম্বরে জাতীয় যন্ত্রপাতি পরিচিতি নিবন্ধন ব্যবস্থা (NEIR) চালু করা হবে, যা মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অপরাধ দমন সহজ করবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, এনইআইআর চালু হলে অপরাধীদের ব্যবহৃত সিম ট্র্যাক ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। মোবাইল ফিনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনঃভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএফআইইউ প্রতিনিধিরা জানান, এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজার এমএফএস নম্বর বন্ধ করা হয়েছে। তারা এনআইডি ও সিম-ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে এমএফএস যাচাইয়ের জন্য বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে যৌথ প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব দেন।

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১২৩টি জুয়ার অ্যাপ এবং অসংখ্য ওয়েব লিংক ও ইউআরএল ব্লক করা হয়েছে।

ডিজিএফআই, এনএসআই ও সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রতিনিধিরা সভায় জানান, দেশীয় চক্রের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও জুয়া ও বেটিং চক্র পরিচালিত হচ্ছে। তারা মোবাইল অপারেটর ও আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কনটেন্ট শনাক্তকরণে সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “নির্বাচন কমিশনসহ সব নীতিনির্ধারণী ও কারিগরি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ শিগগির নেওয়া হবে।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত