
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-সংক্রান্ত অভিযোগে করা দুটি মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের আদালতে তোলা হয়। এর আগে গত ২২ অক্টোবর প্রথম দিনে হাজিরের পর ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামি শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়।ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, দুটি মামলাই গুম ও গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন রামপুরা এলাকায় গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে করা হয়েছিল। গত ৮ অক্টোবর এসব অভিযোগে ফরমাল চার্জ গ্রহণের পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তার ভিত্তিতেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেনা কর্মকর্তাদের আদালতে উপস্থাপন করে।
তিনি বলেন, গুমের একটি মামলা টিএফআই সেলের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে করা হয়, যেখানে অভিযোগ রয়েছে ১৪ জনকে আটক রেখে গুম করার। এই মামলায় ১৭ জন আসামির মধ্যে ১০ জনকে হাজির করা হয়েছিল। আরেকটি মামলা জেআইসি–সংক্রান্ত, যেখানে ২৪ জনকে আটকের অভিযোগে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলায় তিনজনকে হাজির করা হয়েছে, বাকিরা পলাতক। উভয় মামলার পলাতকদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, কারাগারে পাঠানোর অর্থ হচ্ছে আসামিরা এখন থেকে কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকবেন। কোথায় রাখা হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ কারা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার।
গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথমবারের মতো গুম, গোপন আটকে রাখা, নির্যাতন ও হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে দুটি ফরমাল চার্জ আমলে নেয়। সেই চার্জ উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম জানান, গুমের টিএফআই ও জেআইসি–সংক্রান্ত দুটি মামলা এবং জুলাই আন্দোলনে গুলি চালানোর অভিযোগে বিজিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলাসহ মোট তিনটি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।এরপর ১১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসে সংবাদ সম্মেলন করে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, চার্জশিটে নাম থাকা ১৬ কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন স্বেচ্ছায় সেনা হেফাজতে এসেছেন। যদিও সেনাবাহিনী কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পায়নি, তবু আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে কর্মকর্তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, চার্জশিটে মোট প্রায় ২৫ জন সেনা সদস্যের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন অবসরে এবং একজন এলপিআরে আছেন, যাদের ক্ষেত্রে সামরিক আইন প্রযোজ্য নয়। কর্মরত ১৫ কর্মকর্তাকে ৮ অক্টোবরের পর সেনা হেফাজতে ডাকা হয়। তবে মেজর জেনারেল কবির নামে এক কর্মকর্তার সঙ্গে ৯ অক্টোবরের পর থেকে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।পরদিন ১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে ‘কারাগার’ হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে হেফাজতে থাকা কর্মকর্তাদের আইনগতভাবে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।


