সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img

দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি চান নেতানিয়াহু,প্রেসিডেন্ট হার্জোগের কাছে ক্ষমার আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশেষে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমার আবেদন জমা দিয়েছেন। রোববার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের দপ্তর সচেতন যে এটি একটি “অসাধারণ ও তাৎপর্যপূর্ণ” অনুরোধ, যার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। সমস্ত প্রাসঙ্গিক মতামত সংগ্রহের পর আবেদনটি “দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে” বিবেচনা করা হবে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে দায়ের করা তিনটি পৃথক দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

একটি ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমার মামলার বিচার প্রায় ছয় বছর ধরে চলছে এবং আরও বহু বছর ধরে চলবে বলে মনে হচ্ছে। আমি চাই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলো মোকাবিলা করতে, কিন্তু জাতীয় বাস্তবতা এখন ভিন্ন নির্দেশ দিচ্ছে।”তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল বর্তমানে “বিশাল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের” সম্মুখীন। এমন পরিস্থিতিতে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া দেশকে “ভেতর থেকে বিভক্ত করছে, বিভাজন তীব্র করছে এবং সামাজিক ফাটলকে আরও গভীর করছে।”নেতানিয়াহুর এই আবেদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপের পর এলো। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ট্রাম্প সম্প্রতি হার্জোগকে চিঠি দিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার আহ্বান জানান। নভেম্বরে পাঠানো সেই চিঠিতে তিনি ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ করেন।

এর আগে অক্টোবরে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে প্রদত্ত এক ভাষণেও ট্রাম্প হার্জোগকে “প্রশ্নবিদ্ধ মামলাগুলোতে নেতানিয়াহুকে মুক্তি দেওয়ার” আহ্বান জানান। নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপকে অভূতপূর্ব বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলের ইতিহাসে কোনো দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী—যিনি আবার বিশ্বের দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা নেতাদের একজন—এভাবে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, এমন নজির খুব কমই আছে।প্রেসিডেন্ট হার্জোগ কী সিদ্ধান্ত নেন এখন তাই অপেক্ষার বিষয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে—ক্ষমা দেওয়া হলে তা কি বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, নাকি জাতীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে এটি প্রয়োজনীয় হবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত