সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img

সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিল কানাডা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে কানাডা। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের পতনের প্রায় এক বছর পর বৃহস্পতিবার কানাডা সরকার সিরিয়াকে এই তালিকা থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)–এর নামও সন্ত্রাসী সংগঠন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালে কানাডা প্রথম সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। তখন সিরিয়া ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত, দীর্ঘমেয়াদি সহিংসতায় বিপর্যস্ত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছিল। ওই সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয় এবং যুদ্ধ-পূর্ব ২ কোটি ৩০ লাখ সিরীয় নাগরিকের অর্ধেক বাস্তুচ্যুত হন। আসাদের দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া জনঅসন্তোষ ও সংঘাত দেশটিকে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে ঠেলে দেয়।আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ আন্তর্জাতিক মঞ্চে সিরিয়াকে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে নেওয়া উদ্যোগকে বিবেচনায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না; তবে দেশটির পরিবর্তিত পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কানাডার মিত্র দেশ—যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে জানায়, “কানাডীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা, নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)–এর নাম সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ আসাদ সরকারকে উৎখাতের পর এই সংগঠনই দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল।অন্যদিকে, সিরিয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার দামেস্ক সফর করে। সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি ও জাতিসংঘে স্লোভেনিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি স্যামুয়েল জবোগার বলেন, “এই সফরের লক্ষ্য ছিল আস্থা তৈরি করা। আমরা আশা করি, আজ আমরা সেই পথে এক ধাপ এগিয়েছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি। তবে দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত, রাজনৈতিক বিভাজন ও পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে দেশটির সামনে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন আছে।

সূত্র: সিবিসি

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত