
ইউরোপে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করতে নতুন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো। অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত করতে ‘রিটার্ন হাব’ নামে বিশেষ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউয়ের ২৭ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইউরোপে প্রবেশ, অবস্থান ও প্রত্যাবর্তন—তিন দিক থেকেই অভিবাসন ব্যবস্থাকে কঠোর করার লক্ষ্যেই নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবের মূল দিকগুলোযাদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হবে, তাদের এসব কেন্দ্রে পাঠানো হবে।হাব কেন্দ্রগুলোতে থাকার পর অভিবাসীদের নিজ দেশে বা ইইউ নির্ধারিত ‘নিরাপদ দেশে’ ফেরত পাঠানো হবে।ইউরোপ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে অভিবাসীদের আরও দীর্ঘ সময় আটক রাখা যাবে।ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসীদের শুধুমাত্র নিজ দেশে নয়, ইইউ-নির্ধারিত নিরাপদ দেশগুলোতেও পুনর্বাসন করা যাবে।কমপক্ষে ৩০ হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে বিভিন্ন ইইউ দেশগুলোতে বণ্টন করা হবে।কোনো দেশ চাইলে শরণার্থী গ্রহণের পরিবর্তে প্রতি ব্যক্তির জন্য ২০ হাজার ইউরো সহায়তা দিতে পারবে।
২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশকারীর সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। তবে রাজনৈতিক চাপ ও জনমত অভিবাসন নীতি কঠোর করার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য।ইউরোপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও এনজিও নতুন প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে—নতুন নীতিগুলো মানবিক সুরক্ষা দুর্বল করবে,আরও বেশি মানুষকে বিপদের মুখে ফেলবে,তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানো মানবাধিকারের ঝুঁকি বাড়াবে।


