সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img

তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি—তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া—আজ বুধবার পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।সূত্রগুলো বলছে, আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার আগেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন বলে সরকার–সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা বিষয়টি সরকারকে অবহিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন আসিফ মাহমুদ ,স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, এই সংবাদ সম্মেলনেই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের নিয়মিত বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সন্ধ্যায় সরকারের উচ্চপর্যায় নিশ্চিত হয়—বুধবারই তাঁরা দায়িত্ব ছাড়ছেন। সরকার–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দুই উপদেষ্টাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা কিছু সময় অতিরিক্ত চেয়েছিলেন। এমনকি উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকতে আগ্রহী ছিলেন, যদিও নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। পরে গত মাসে তাঁদের প্রতি নতুন করে তাগাদা আসে। উচ্চপর্যায়ের মত হলো—তফসিল ঘোষণার পর ছাত্র প্রতিনিধি দুই উপদেষ্টার পদে থাকা শোভনীয় হবে না, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিক বা না–নিক।

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজনকে উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

  • নাহিদ ইসলাম—তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পান; পরে পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়ক হন। আসিফ মাহমুদ—প্রথমে শ্রম, পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পান। মাহফুজ আলম—প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে শুরু করেন, পরে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হন।

আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়। তিনি ৯ নভেম্বর ভোটার এলাকা বদল করে ধানমন্ডি ঠিকানায় আবেদন করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ঢাকা–১০ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। তবে ওই আসনে বিএনপি ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ কারণে আসিফ স্বতন্ত্র নাকি কোনো দল থেকে নির্বাচন করবেন—সেটি এখনো অনিশ্চিত। অন্যদিকে মাহফুজ আলমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর–১ আসনে হলেও ওই আসনে বিএনপি সম্প্রতি এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিমকে মনোনয়ন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে মাহফুজ আলমের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে।

নতুন জোট ও এনসিপির মনোনয়ন নিয়ে নজর এই সময় রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠনে ব্যস্ত। গত রোববার এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। এনসিপি বিভিন্ন আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে।
মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ এনসিপির মনোনয়ন নেন কি না—রাজনৈতিক মহলে তা এখন বিশেষ আগ্রহের বিষয়।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত