সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img

একাত্তরের চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ নয়—এটি আমাদের পরিচয়”

মোঃ সোহেল তালুকদার , চট্টগ্রাম

আজ আমাদের মহান বিজয় দিবস। এই সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান জানানোর কথা, তখন কিছু সংখ্যক ব্যক্তির ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটা

একাত্তর নিয়ে বিষোদগার—আর নয়!

​যারা ভাবছেন, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করে পার পাওয়া যাবে, তাদের জন্য স্পষ্ট হুঁশিয়ারি:​নামধারী ধর্মীয় বক্তা বা যে কেউ হোক না কেন, ৭১-এর শহীদের রক্ত, মা-বোনের সম্ভ্রম এবং জাতির অর্জন নিয়ে বিদ্রূপ করা বা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া অমার্জনীয় অপরাধ।

​টক-শোতে আসা কতিপয় ব্যক্তি বা অন্যান্য পেশাজীবী, যারা টক-শো’র নামে ৭১-এর ইতিহাসকে ছোট করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছেন, তাদের মনে রাখা উচিত—স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা।

​যে ইউটিউবার সাংবাদিকেরা সস্তা ভিউ ও হলুদ সাংবাদিকতার লোভে ৭১-এর সঠিক ব্যাখ্যাকে অপব্যাখ্যা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, আপনাদের সেই মিথ্যা প্রচারণার দিন শেষ হবে ইনশাআল্লাহ।​৭১ আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। এই ভিত্তিকে দুর্বল করার কোনো অপচেষ্টা বাঙালি জাতি সহ্য করবে না।

​৭১ ও ২৪: একই চেতনার দুই প্রবাহ আপনারা ভুলে যাবেন না, ৭১ (মুক্তিযুদ্ধ) এবং ২৪ (জুলাই গণঅভ্যুত্থান) একই বাঙালি চেতনার দুটি শক্তিশালী ধারা।​৭১ আমাদের শিখিয়েছে সকল স্বৈরাচারী শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে হয়।​২৪ আমাদের দেখিয়েছে সেই স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জন্ম নেওয়া বৈষম্য, অবিচার, ও স্বৈরাচারকে অহিংস গণজাগরণের মাধ্যমে কীভাবে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হয়। ​আমরা যেমন ‘৭১-এর বীরত্বকে সমুন্নত রাখি, তেমনি ‘২৪-এর ছাত্র-জনতার গণজাগরণকেও সমান শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। কারণ, চব্বিশের চেতনা হলো একাত্তরের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

​ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করুন! ​৭১-এর মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে যারা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াবেন, তাদের জানা উচিত—চব্বিশের গণজোয়ার প্রমাণ করেছে, এই দেশের ছাত্র-জনতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে একজোট হতে পারে।আপনারা যদি ইতিহাস বিকৃতি, অপপ্রচার ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা বন্ধ না করেন, তবে আপনাদের বিরুদ্ধে ‘৭১ এবং ‘২৪-এর চেতনার সমন্বয়ে গঠিত এক্যবদ্ধ গণজোয়ার সৃষ্টি হতে বেশি সময় লাগবে না।

আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিরুপ মন্তব্য পোষন করা হয়-অথচ আমরা বাঙ্গালি হিসেবে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করা প্রয়োজন—কারণ এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি একটি জাতির নৈতিক মানচিত্র, আত্মপরিচয় ও মূল্যবোধের ভিত্তি।

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বলে দেয় আমরা কারা, কেন স্বাধীন, এবং কোন মূল্যের বিনিময়ে এই দেশ পেয়েছি। এই চেতনা না থাকলে জাতি হিসেবে আমরা দিশাহীন হয়ে পড়ি।লক্ষ শহীদের রক্ত, মা-বোনের ত্যাগ, ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এই রাষ্ট্র—এসব মনে রাখলেই স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য বোঝা যায়। চেতনা ছাড়া স্বাধীনতা কেবল একটি শব্দে পরিণত হয়। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল শোষণমুক্ত সমাজ, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা। এই চেতনা হৃদয়ে থাকলে দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস জন্মায়।

সাম্প্রদায়িকতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য শেখায়। এটি ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শের নামে বিভক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শক্ত ঢাল।ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারন করতে হবে,আমরা সঠিক ইতিহাস হৃদয়ে ধারন না করলে ইতিহাস বিকৃত হবে। আর বিকৃত ইতিহাস নিয়ে গড়ে ওঠা প্রজন্ম কখনো দায়িত্বশীল নাগরিক হতে পারে না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানুষকে শুধু অধিকার সচেতন নয়, কর্তব্যপরায়ণও করে—দেশকে ভালোবাসা শেখায় কর্মে, কথায় নয় শুধু।মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করা মানে কেবল অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং বর্তমানকে সৎ রাখা এবং ভবিষ্যৎকে আলোকিত করা।

এই চেতনা বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। ​মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শ্রদ্ধা করুন। স্বাধীনতাকে সম্মান করুন।মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা হৃদয়ে ধারন করুন। স্বাধীন বাংলাদেশ এর সর্বস্তরের বাঙালিকে জানাই মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত