
১১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিল চসিক
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ১১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ ও সম্মানীর অর্থ তুলে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এর আগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডিসি পার্কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সমতা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধারা কখনো ভাতা বা ব্যক্তিগত প্রাপ্তির কথা চিন্তা করেননি। তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন কেবল দেশকে স্বাধীন করার জন্য। স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মেয়র বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছরে আমরা কী অর্জন করেছি আর কী অর্জন করতে পারিনি— তা আত্মসমালোচনার বিষয়। কেবল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করলে চলবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের যে আকাঙ্ক্ষা— একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ— সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাঁদের আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনা ও সমাজ গঠনের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, গত বছর তিনি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন দেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক ও হালনাগাদ তালিকা প্রণয়নের জন্য। কারণ বর্তমানে অনেক অনৈতিকভাবে মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করছে, অথচ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা নীরবে হারিয়ে যাচ্ছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা নিঃস্বার্থভাবে যুদ্ধ করেছেন। তিনি নিজের পারিবারিক স্মৃতিচারণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁদের পরিবার ঘরছাড়া হয়েছিল এবং রাজাকারদের ভয়াবহতা আজও তাঁর চোখে ভাসে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান খাটো করার অপচেষ্টা হয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সম্মান নিশ্চিত করতে হবে এবং ইতিহাস বিকৃতি রোধ করতে হবে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সংসদের আহ্বায়ক কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল বারিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অভীক ওসমান এবং শহীদ আবুল মনসুরের ভাই ডা. রকিবুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


