শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
spot_img

মহাসড়কে প্রশাসন পরিচয়ে তরুণ আইনজীবীকে একাধিকবার গাড়ি থামিয়ে ভয়ভীতি নিরাপত্তা হুমকিতে আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে এক তরুণ আইনজীবীকে একাধিকবার গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, ভয়ভীতি ও জোরপূর্বক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় কোনো থানা পুলিশ কিংবা ডিবি সদস্য জড়িত নয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬ (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া–চট্টগ্রাম অংশে।
ভুক্তভোগী আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ সাকিব (২৮) লোহাগাড়া থেকে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে নিজস্ব ব্যক্তিগত গাড়ি (সাদা টয়োটা কেরিনা, চট্টমেট্রো-গ-১১-৫৪৪০) চালিয়ে একা রওনা দেন।
প্রথম ঘটনা ঘটে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে, চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ সংলগ্ন নির্মাণাধীন সেতুর ওপর। সেখানে ওয়্যারলেস হাতে সিভিল পোশাকধারী দুই ব্যক্তি প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে তার গাড়ি থামান। পরিচয় নিশ্চিত করতে আইডি কার্ড চাইলে তারা তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গাড়ির দরজা খুলতে বলেন। সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে আইনজীবী কৌশলে সেখান থেকে চলে যান।
এ ঘটনার পর দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নিশ্চিত করেন, ওই স্থানে পুলিশের কোনো চেকপোস্ট বা টহল দল ছিল না। হাইওয়ে থানা বিষয়টি যাচাইয়ের আশ্বাস দেয়। চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এরপর রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ১০ মিনিটের মধ্যে, পটিয়া উপজেলার শান্তির হাট বাজার এলাকায় একটি নোয়া গাড়ি থেকে নেমে চার ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে সাকিবের গাড়িতে সিগন্যাল দেন। তারা হ্যান্ডকাফ প্রদর্শন করে জোরপূর্বক গাড়িতে উঠে বসে এবং দাবি করে, “আপনার বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ ইনফরমেশন আছে, দীর্ঘদিন ধরে আপনার লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে।” একপর্যায়ে তারা আইনজীবীর গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কক্সবাজারমুখী সড়কে চলতে শুরু করে।
আইডি কার্ড দেখাতে বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা তা দেখায়নি। আইনজীবী সাকিব নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে থানায় জানানো হয়েছে। এ সময় তারা তার মোবাইল ফোনের লোকেশন বন্ধ করতে বলে। মাত্র ২–৩ মিনিট পর মনসা বাদামতল এলাকা থেকে ৩–৪ কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন স্থানে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ বা যাচাই ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার বিষয়ে পটিয়া সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন ডিবি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিশ্চিত করেন, ডিবি পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা তাদের বিভাগের কেউ নন এবং ওই সময় কোনো ডিবি টিম সেখানে ছিল না।
নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় আইনজীবী সাকিব নতুন ব্রিজ এলাকা এড়িয়ে কর্ণফুলী টানেল হয়ে আনোয়ারা পথে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি লক্ষ্য করেন, আগের সেই গাড়িটি তাকে অনুসরণ করছে। নিজেকে অনিরাপদ মনে করে তিনি টানেল মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় অবস্থান নেন এবং পুলিশের সহায়তা নেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আইনজীবী অভিযোগ দাখিল ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে গাড়ি থামানো ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত ও এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত