সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটার ড্রাম চিমনি গুঁড়িয়ে , ৬ লাখ টাকা জরিমানা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি অনুমোদনহীন ইটভাটার ক্ষতিকর ড্রাম চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পাশের আরেকটি ইটভাটাকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযানের পরও অবৈধ ইটভাটা পুনরায় চালুর অভিযোগ উঠেছে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান। অভিযানে সহযোগিতা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয় এবং রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বানিয়াখোলা এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই ইটভাটা পরিচালনা করে পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রাম চিমনি ব্যবহার ও জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর দায়ে একটি ইটভাটার চিমনি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া একই এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংস, বনের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার এবং কৃষিজমির টপসয়েল কাটার অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আরেকটি ইটভাটাকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
এদিকে গত ২৬ জানুয়ারি রবিবার বিকেলে ওই এলাকা ও ইটভাটাগুলো পরিদর্শন করে পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি ও সেবামূলক সংগঠন ‘গ্রীন চট্টগ্রাম অ্যালায়েন্স’। সংগঠনের পরিদর্শন টিম সরেজমিনে বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে কেবিএম ও কেআরএম নামের দুটি ইটভাটার অস্তিত্ব দেখতে পায়। টিমের দাবি, ওই স্থানে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া ড্রাম চিমনি দিয়ে ইট পোড়ানো এবং জ্বালানি হিসেবে বনের কাঠ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইটভাটা দুটিতে প্রায় কোটি টাকার বনের কাঠ মজুদ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইটভাটা দুটির মালিক বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, “আমরা বিএনপি করি। আমার নেতা হুমাম কাদের। তিনি সব জানেন। নেতার নাম বললেই প্রশাসনের কেউ কিছু করতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, “হুমাম কাদেরের নাম শুনলেই সবাই ভয় পায়।”
তবে এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাঙ্গুনিয়া থেকে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুমাম কাদেরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।এদিকে রাঙ্গুনিয়ার একাধিক বিএনপি ও যুবদল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হুমাম কাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন—তার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। পরিবেশ ধ্বংস করে আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।
এছাড়া অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, কিছু অবৈধ ইটভাটা উপজেলা প্রশাসনের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করে জানান, এসব ইটভাটা থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার কারণে প্রশাসনের তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে।গ্রীন চট্টগ্রাম অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ও পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান বলেন, “পরিবেশের ক্ষতি যেই করুক, যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন—তার কোনো ছাড় নেই। পরিবেশ রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত