
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হয়রানি বন্ধের দাবিতে ডাকা ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী এনসিটি চুক্তি না করার সিদ্ধান্তকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রাত ৯টায় ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও গভীর রাতে তা প্রত্যাহার করা হয়।ধর্মঘট স্থগিত সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটি তাদের পাঁচ দফা প্রধান দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরে।
দাবিগুলো হলো—
১. গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ কর্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার।
২. দেশের বিভিন্ন বন্দরে ১৫ জন কর্মচারীর ‘হয়রানিমূলক’ বদলি আদেশ বাতিল।
৩. আন্দোলনরত ও কর্মরত কর্মচারীদের ওপর আরোপিত সব ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার।
৪. আন্দোলনকারী কর্মচারীদের নামে বরাদ্দকৃত বাসা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত।
৫. সাময়িক বরখাস্তসহ ১৬ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল।
বিজ্ঞপ্তিতে নেতারা বলেন, আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খালাস স্বাভাবিক রাখা এবং ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনা করে বৃহত্তর স্বার্থে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত থাকবে।সংগঠনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি ও সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


