
চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর শহীদ ওয়াসিম আকরাম পার্কে বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘বসন্ত উৎসব-১৪৩২’। রঙিন আয়োজনের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আশা প্রকাশ করেন, Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে গঠিত সরকার দেশে ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
মেয়র বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, Bangladesh Awami League ক্ষমতায় থাকাকালে রমনা বটমূলে বৈশাখী উৎসবে বোমা হামলা, উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় সাংস্কৃতিক কর্মী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। ধর্মীয় উৎসব, উপাসনালয় কিংবা সাংস্কৃতিক অঙ্গন—কোনো কিছুই নিরাপদ ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে জনগণ সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে বলেও মন্তব্য করেন মেয়র।তিনি আরও বলেন, বসন্ত উৎসব কেবল ঋতু পরিবর্তনের উদযাপন নয়; এটি বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। ফাল্গুন মাস প্রকৃতিকে যেমন নতুন রূপে সাজায়, তেমনি মানুষের মনেও জাগায় নতুন প্রত্যয়। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন মেয়র শাহাদাত।
ভালোবাসা দিবস ও পয়লা ফাল্গুনের আবহে সকাল থেকেই পার্ক প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। তরুণ-তরুণীদের বাসন্তী পোশাক, ঢোলের তালে নৃত্য আর কবিতার আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। সকাল ৯টায় ভায়োলিনের সুরে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর একে একে পরিবেশনা করে সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্যা স্কুল অব ক্ল্যাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ড্যান্স, নৃত্য নিকেতন ও মাধুরী ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা। রবীন্দ্রসংগীত ও লোকগীতির সুরে ফুটে ওঠে ফাগুনের উচ্ছ্বাস।একক পরিবেশনায় অংশ নেন কেশব জিপসী, ঋষু তালুকদার, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, কান্তা দে, সুমিতা সরকার, রিনা দাশ ও মনি আচার্য। আবৃত্তি পরিবেশন করেন কঙ্কণ দাশ, মিশফাক রাসেল ও দেবাশীষ রুদ্র।বোধন আবৃত্তি পরিষদের অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল বলেন, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে বাঙালির উৎসবগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন দিনে পুরোনো জীর্ণতা ভুলে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।গৌতম চৌধুরী, পল্লব গুপ্ত, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বিনী ও ঋত্বিকা নন্দীর উপস্থাপনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। দিনের শেষে পার্ক প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বসন্তের রঙে রাঙিয়ে দেয় চারদিক।


