
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী জানান, নগরীর ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মোট ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে। এর মধ্যে মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে ৬৮০ জন উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। বাকি উপকারভোগীদের মধ্যে ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে।খানা জরিপের মাধ্যমে ওই ওয়ার্ডে মোট ১০ হাজার ১২৪ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে দারিদ্র্য সূচক মান (পিএমটি) স্কোরিং অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে ৫ হাজার ৫৭৫ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমার রাজনৈতিক ও কর্মজীবনে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আমাকে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি দিচ্ছে। এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিবারে নারী প্রধানরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করেন। সন্তানের দেখভাল, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের নানাবিধ কাজ সামলে তারা পরিবারকে এগিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের এই অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন হয়নি।নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে পরিবারের নারী প্রধানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কারণ পরিবারে নারী প্রধানকে ক্ষমতায়ন করা না গেলে আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।প্রকল্পের ব্যাপ্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কোনো ছোট উদ্যোগ নয়। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।চট্টগ্রামের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নগরীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৫৭৫টি পরিবারের নারী প্রধানদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এতে উপকারভোগীদের কোথাও যেতে হয়নি কিংবা কারও কাছে সহায়তা চাইতে হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করে প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করেছেন।তিনি জানান, এই কর্মসূচি প্রথমে হতদরিদ্র পরিবার দিয়ে শুরু হয়েছে। পরে ধাপে ধাপে দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছেও এর সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।স্বল্প সময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাধারণত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুরু করা সম্ভব হয়েছে, যা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের উন্নয়নের মূল একক ব্যক্তি নয়, বরং পরিবার। সেই লক্ষ্য থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আজ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে।চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে বিএনপির অঙ্গীকার আবারও প্রমাণিত হয়েছে।স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এই কর্মসূচি দেশের নারী সমাজের জন্য নতুন আশার দ্বার উন্মোচন করেছে। একটি পরিবারের মূল শক্তি নারী, আর ফ্যামিলি কার্ড সেই শক্তিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নীপা আক্তার বলেন, নির্বাচনের এক মাসের মধ্যেই কার্ড পেয়ে তিনি আনন্দিত। আরেক উপকারভোগী গীতা সরকার বলেন, তার মোবাইলে ইতোমধ্যে টাকার বার্তা এসেছে, এজন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


