সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬
spot_img

কালরাত্রির শহীদদের শ্রদ্ধায় লাল পোশাকে পথে নামবে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো গণহত্যার শোকাবহ স্মৃতি স্মরণে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী শোভাযাত্রা ‘লালযাত্রা’। প্রতিবছরের মতো এবারও ২৫ মার্চ উপলক্ষে এই আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রাচ্যনাট।

আয়োজকরা জানান, ‘লালযাত্রা’ শুধু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণেই নয়; বরং সেই সময় থেকে শুরু করে বর্তমান বিশ্বে চলমান সহিংসতা ও মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবেও এটি আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলার মাটি থেকে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন মানবতার প্রান্তরে গণহত্যার শিকার সব শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

তারা আরও জানান, দীর্ঘ সেই কালরাত্রির রক্তাক্ত পথ ধরেই এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সেই ইতিহাসের স্মৃতি বুকে ধারণ করেই নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস চলছে এই আয়োজনের মাধ্যমে।বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আয়োজকরা বলেন, বর্তমানে ফিলিস্তিন-গাজা, লেবানন, ইউক্রেন-রাশিয়া, সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও যুদ্ধের কারণে নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরছে। এসব যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতেই ‘লালযাত্রা’ একটি প্রতীকী আন্দোলন হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় শোভাযাত্রাটি শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর (টিএসসি) থেকে এবং শেষ হবে স্মৃতি চিরন্তন (ফুলার রোড) প্রাঙ্গণে। এতে নাট্যকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ লাল পোশাক পরে অংশগ্রহণ করবেন।প্রাচ্যনাট জানায়, ২০১১ সাল থেকে তারা নিয়মিতভাবে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে এই ‘লালযাত্রা’ আয়োজন করে আসছে। প্রতিবছরই এই শোভাযাত্রা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, এই শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত লাল রং শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি শোক, প্রতিবাদ ও ঐক্যের বার্তা বহন করে—যা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা জোগায়।

- Advertisement -spot_img
  • পঠিত
  • সর্বশেষ

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত