
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাফিয়া সুলতানা রাফি আর নেই।বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তার মৃত্যুর বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়, রাফিয়া রাফি ছিলেন একজন সাহসী, আদর্শবাদী ও সংগ্রামী রাজনৈতিক কর্মী।ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন পর্যন্ত তিনি সক্রিয়ভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
জানা যায়, রাফিয়া সুলতানা রাফি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন।পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সক্রিয় দেখা যায়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত ছিলেন।পরবর্তীতে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন এবং বগুড়া জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে রাফিয়া রাফি ছিলেন দুই সন্তানের জননী। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে তার দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকে উদ্বেগ ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।তার জানাজার নামাজ আজ বাদ আসর বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার আটবাড়িয়া পীরগাছা এলাকায় তার বাবার বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।রাফিয়া রাফির মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহল, সহপাঠী, শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার স্মৃতিচারণ করে শোক প্রকাশ করছেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।নেতাকর্মীরা বলেন, রাফিয়া রাফি ছিলেন একজন সাহসী, স্পষ্টভাষী ও সংগ্রামী নারী। সমাজ ও রাজনীতিতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার অকাল প্রয়াণ দেশের রাজনীতি ও ছাত্র আন্দোলনের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি বলেও তারা মন্তব্য করেন।


