রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
spot_img

ফ্রান্সে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার শর্ত বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে ফ্রান্সে ভর্তি হতে কিংবা শিক্ষার্থী হিসেবে রেসিডেন্স পারমিট পেতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে কমপক্ষে ৮৭৭ দশমিক ৫০ ইউরো আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে।গত ২২ জুন জারি করা এক নতুন ডিক্রিতে এ তথ্য জানানো হয়। ২০২৬ সালের বাজেট আইনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়ম ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা (ইইএ) এবং সুইজারল্যান্ডের বাইরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিট পেতে বা নবায়ন করতে মাসিক মোট ন্যূনতম মজুরি (স্মিক)-এর ৪৭ শতাংশ সমপরিমাণ আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে।বর্তমানে এই সীমা ৬১৫ ইউরো থাকলেও আগামী ১ আগস্ট থেকে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৮৭৭ দশমিক ৫০ ইউরোতে। ২০০২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো ফ্রান্স বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পরিবর্তন করলো।ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, এই আর্থিক সীমা স্থায়ী নয়। ভবিষ্যতে ফ্রান্সে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থানের পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হবে। বর্তমানে নির্ধারিত ৮৭৭ দশমিক ৫০ ইউরোর সীমা ডিক্রি প্রকাশের সময়কার ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য অ-ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের প্রথমে ‘শিক্ষার্থী’ উল্লেখ থাকা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা (ভিএলএস-টিএস) সংগ্রহ করতে হয়। এটি অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিট হিসেবে গণ্য হয়। এই ভিসার মেয়াদ সাধারণত চার মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করা যায়।ফরাসি সরকারের এমন পদক্ষেপ নতুন নয়। এর আগে ফরাসি উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ডিক্রিতে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তি টিউশন ফি পরিশোধ করতে হবে।

গত ২০ মে ফরাসি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তের ‘চুজ ফ্রান্স ফর হায়ার এডুকেশন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক সংকট কমানো সম্ভব হবে।এছাড়া গত ২৭ জুন সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আরেকটি ডিক্রিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের এবং সরকারি বৃত্তি না পাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা আবাসন সহায়তা (এপিএল) সুবিধাও আর পাবেন না।

ফরাসি সরকারের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার অর্থায়নে ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ফরাসি ডিগ্রির আন্তর্জাতিক মূল্য আরও বাড়বে এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ও উচ্চ সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা যাবে।তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত মে মাসজুড়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত