
১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি জিতেছে স্পেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধারের আনন্দে যখন গোটা স্পেন উচ্ছ্বসিত, তখন আলোচনায় উঠে এসেছে লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেয়ার একটি মজার প্রতিশ্রুতি।বিশ্বকাপের আগে কুকুরেয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন, স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলে তিনি কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখের ট্যাটু নিজের শরীরে আঁকাবেন। ট্রফি জয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচও।
সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে হাস্যরস করে বলেন, “ট্যাটু করানোর বয়স আমার আর নেই। তবে আমার খেলোয়াড়রা কথা রাখে। আমি জানি, কুকুরেয়াও তার প্রতিশ্রুতি রাখবে।” শরীরের কোথায় নিজের মুখের ট্যাটু দেখতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ মুচকি হেসে বলেন, “হয়তো এমন কোনো জায়গায়, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না। তবে কথা দিলে সেটা রাখতেই হবে।”স্পেনের বিশ্বজয়ে সবচেয়ে বড় নায়কদের একজন ছিলেন মিডফিল্ডার রদ্রি। ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের পর হাঁটুর গুরুতর এসিএল চোটে তার ক্যারিয়ারই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে তিনি জিতেছেন গোল্ডেন বলও।
বিশ্বকাপ, ইউরো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ব্যালন ডি’অর—ফুটবলের চারটি মর্যাদাপূর্ণ শিরোপাই এখন রদ্রির অর্জনের ঝুলিতে। অতীতে কেবল ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার ও জিনেদিন জিদানই এমন কীর্তি গড়েছিলেন।বিশ্বকাপ জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় রদ্রি বলেন, “এটা যেন নিখুঁত এক চিত্রনাট্য। আমি চাই তরুণরা দেখুক, স্বর্গের উচ্চতা ছুঁয়ে আবার নরকের গভীরতায় নেমেও কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। প্রতিকূলতাকে জয় করাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।”
স্পেনের এই সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফল বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। গত পাঁচ বছরে নারী ও পুরুষ—দুই বিভাগের ফুটবল মিলিয়ে ১৬টি শিরোপা জিতেছে দেশটি। ফুটবল বিশ্লেষক গিলেম বালাগে একে আখ্যা দিয়েছেন “নিখুঁত ঝড়”, যা স্প্যানিশ ফুটবলের আধিপত্যেরই প্রতিফলন।ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। পুরো টুর্নামেন্টে গোল না পাওয়ায় সমালোচনার মুখে থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই দলকে শিরোপা এনে দেন তিনি। ম্যাচ শেষে ফেরান বলেন, “ভাগ্যে এটাই লেখা ছিল। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সবসময় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছেন।”
ফেরানের প্রশংসা করে কোচ দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “জীবন শেষ পর্যন্ত সুবিচার করে। যারা পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ায়, তারাই প্রতিদান পায়। ফেরান নিজের যোগ্যতায় এই সাফল্য অর্জন করেছে।”স্পেনের বিশ্বজয়ের বড় ভিত্তি ছিল তাদের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা, যা বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন গোল হজমের নতুন রেকর্ড।
লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেয়া বলেন, “গোল না খেলে ম্যাচ জেতা অনেক সহজ হয়ে যায়। তবে এই কৃতিত্ব শুধু ডিফেন্ডার বা গোলরক্ষকের নয়, পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”স্পেনের দলগত ফুটবলও ছিল নজরকাড়া। পুরো বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৫,৪৭০টি পাস দিয়ে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রেখে শিরোপা জিতেছে তারা।তবে বিশ্বজয়ের পরও আত্মতুষ্ট নন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি জানান, ম্যাচ শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আমাদের কি এখনো সব জেতা বাকি?” উত্তরে কোচের সংক্ষিপ্ত জবাব ছিল, “সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচ থেকেই আবার শুরু।”


