সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
spot_img

ডেঙ্গুমুক্ত ও সবুজ চট্টগ্রাম গড়তে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও ডেঙ্গুমুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি সরকারি ভবনের ছাদ ও আঙিনায় একযোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। র‌্যালিটি সার্কিট হাউস থেকে কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মূল শক্তি।তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জীবনাচরণ। তাই প্রতি শনিবার নিজের বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই শুরু হওয়া উচিত।”

মেয়র আরও বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তন ব্যক্তি ও পরিবার থেকেই শুরু হয়। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ নিজ বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সহজ হবে। সরকারি সংস্থার একার পক্ষে পুরো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যালয়গুলোতে ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, জেলার ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, ৮টি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, ৪০৬টি উপজেলা পর্যায়ের ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ভবনে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।তিনি বলেন, ভবনগুলোর ছাদ ও আঙিনার আগের ও পরের চিত্র সংরক্ষণ করে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। পরিচ্ছন্নতাকে একটি স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

কর্মসূচিতে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম (বিপিএম), বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত