সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
spot_img

কর্ণফুলীতে বন্য হাতির আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াঙ পাহাড়ে প্রায় আট বছর ধরে বন্য হাতির বিচরণ স্থানীয় জনজীবনে আতঙ্কের কারণ হয়ে ছিল। চলতি বছরের এপ্রিলে হাতির দলটি বাঁশখালীর বনে ফিরে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল এলাকাবাসীর মাঝে। তবে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আবারও লোকালয়ে হাতির উপস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যার পর আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক এলাকা এবং কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) সংলগ্ন পাহাড়ে একটি বন্য হাতিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক এলাকার মাহমুদ উল্ল্যাহ পাড়ার একটি বাড়িতে হাতির হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মুহাম্মদপুর ও ফকিরখীল এলাকায় একাধিক বসতবাড়ির দেয়াল ভেঙে ফেলে এবং ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করেছে বন্য হাতি।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ভোররাতে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গিয়ে দেখেন হাতি তার বাড়ির দেয়াল ভেঙে গোলা থেকে ধানের বস্তা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতি-মানুষ সংঘাত মোকাবিলায় গঠিত এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) থাকলেও রাতে তাদের কার্যকর উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে পাহাড়ঘেঁষা এলাকার মানুষকে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাতি সাধারণত তাদের পুরোনো করিডোর ব্যবহার করে চলাচল করে। কিন্তু দেয়াঙ পাহাড় এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং কেইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় হাতির স্বাভাবিক আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংকুচিত হয়েছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে হাতিগুলো লোকালয়ে চলে আসছে।বাঁশখালী জলদী রেঞ্জের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, একটি হাতি পুনরায় আনোয়ারা ও কেইপিজেড এলাকায় প্রবেশের খবর তারা পেয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইআরটি সদস্যরা কাজ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে হাতির উপস্থিতির খবর পেয়েছেন। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হবে এবং সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।পরিবেশকর্মী রিতু পারভী বলেন, হাতির করিডোর ও আবাসস্থল রক্ষা না করলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। শুধু ইআরটি টিম বা ক্ষতিপূরণ দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বনের ভেতরে হাতির জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা এবং করিডোর সংরক্ষণই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

- Advertisement -spot_img

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত