
নগরের ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসন, অনুমোদিত নকশার বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নগরের মেহেদিবাগ ও পাঁচলাইশ এলাকার ন্যাশনাল হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল, এরিস্ট্রোকেয়ার হাসপাতাল, ইপিক হাসপাতালের তিনটি শাখা এবং পপুলার হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়।পরিদর্শনে প্রায় প্রতিটি হাসপাতালেই অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার, পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় নানা অনিয়মের চিত্র উঠে আসে। কোথাও আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে, আবার কোথাও অনুমোদিত পার্কিং দখল করে দোকান, ওয়াশিং প্ল্যান্ট, নামাজের স্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অধিকাংশ হাসপাতালেই রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় হাসপাতালের সামনে সড়কে যানবাহন দাঁড় করানো হচ্ছে, যা যানজটের অন্যতম কারণ বলে মনে করছে চউক।
ন্যাশনাল হাসপাতালে অনুমোদিত ৫০টি পার্কিংয়ের বিপরীতে মাত্র ২৮টি পার্কিং পাওয়া যায়। ম্যাক্স হাসপাতালে পার্কিং এলাকা চিকিৎসকদের গাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় দখল হয়ে থাকায় তা দ্রুত অবমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদ্য নির্মিত এরিস্ট্রোকেয়ার হাসপাতাল প্রয়োজনীয় ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানায় চউক।সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পাওয়া যায় ইপিক হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনে। সেখানে অনুমোদনের বাইরে লিফট নির্মাণ, পার্কিং এলাকায় দোকান ভাড়া, ড্রাইভওয়ে না রাখা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি পাওয়া যায়। এ কারণে হাসপাতালটির এক্সটেনশন ভবনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে পপুলার হাসপাতাল অনুমোদিত নকশায় নির্ধারিত ৪০ ফুট খোলা জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরেকটি ভবনের অনুমোদিত নকশাও দেখাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পরিদর্শন শেষে চউক আগামী সোমবার সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে চউক কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, হাসপাতাল একটি উচ্চ জনসমাগমের স্থাপনা হওয়ায় পর্যাপ্ত পার্কিং, অগ্নিনিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। তিনি জানান, জনস্বার্থে হাসপাতালগুলোকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সামনে অপ্রয়োজনীয় ইউ-টার্ন বন্ধ এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।


