
ঐতিহ্যবাহী মদিনা ইসলামি মিশন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ‘সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানী (রহ.) আশরাফী কনফারেন্স’ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত এ কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
মদিনা ইসলামি মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং সিলসিলায়ে আলিয়া আশরাফিয়ার খলীফা মাওলানা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আশরাফী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন নির্বাহী মহাসচিব অ্যাডভোকেট মীর মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম সেলিম এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন খোকন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মানবিক সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার মো. জাবেদ আবছার চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন শেখ নবী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিআইপি শেখ নবী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাওলানা আবদুল মান্নান আশরাফী এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন শাহসুফী সাগীর শাহ আল আমিরী আলমাইজভান্ডারী আল চিশতি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব শাহজাদা মরমীকবি সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা, মাওলানা সৈয়দ জুন-নুরাই, মাওলানা নুরুল আবছার নুরী, মাওলানা মঈন উদ্দীন রেজভী এবং মাওলানা সফিকুল ইসলাম আলকাদেরী।
বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তিনি জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজকে সত্য, ন্যায়, মানবতা ও শান্তির পথে পরিচালিত করেছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই যুগে যুগে আউলিয়া-কিরাম ইসলামের সৌন্দর্য, মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের বাণী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, মাহবুবে ইয়াজদানী মখদুম আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানী (রহ.) মহানবী (সা.)-এর আদর্শের একজন উজ্জ্বল অনুসারী ছিলেন। তিনি ইরানের সিমনান রাজ্যের শাসনক্ষমতা ও পার্থিব ঐশ্বর্য ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নেন। পরবর্তীতে পারস্য থেকে হিন্দুস্তানে হিজরত করে ইসলাম প্রচার, মানবকল্যাণ এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সিলসিলায়ে আশরাফিয়া আজও বিশ্বব্যাপী দ্বীন, মানবতা ও ইসলামের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে । কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যাংকার সিরাজ উদ-দৌলা চৌধুরী, পীরজাদা মুহাম্মদ হাসান, আলহাজ্ব মান্নান খান আশরাফী, মাওলানা সৈয়দ জুলকারনাইন, ইতিহাসবেত্তা সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন, মাওলানা নাছির উদ্দীন আল কাদেরী, মাওলানা ফোরকান আলকাদেরী, জি. এম. মামুনুর রশিদ এবং লেখক হানিফ মান্নান কাদেরী প্রমুখ।
বক্তারা সর্বস্তরের মানুষের প্রতি মহানবী (সা.)-এর আদর্শ, আউলিয়া-কিরামের শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধ অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজে সম্প্রীতি, মানবিকতা, সহনশীলতা এবং ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


