
ইরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। ফোনালাপে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কথিত বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানান।রোববার (২ আগস্ট) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং আরেকটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা চেয়েছে। অপর একটি সূত্র জানায়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরিস্থিতি শান্ত রাখার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন।তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস বা ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস।
এদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো সতর্কবার্তা জারি করেছে। বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অপ্রত্যাশিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের সঙ্গে নতুন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোরভাবে’ ব্যবস্থা নেবে।ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানব। একপর্যায়ে তারা বলবে, আমরা আর এটা সহ্য করতে পারছি না।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং আলোচনার ক্ষেত্রে মিথ্যাচার ও ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। তার এসব মন্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং একই সঙ্গে সৌদি আরবের সংযমের আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।


