
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আলোচিত নুরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদারুল আলম (৪৭)কে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কিরিচ ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার গাদাবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা দিদারুল আলমকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পশ্চিম মেখল এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে মুহাম্মদ নুরুল আজিম (৪৮)কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। প্রথমে তাকে গুলি করা হয়, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নিশ্চিত করা হয় তার মৃত্যু।ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও হাটহাজারী মডেল থানার যৌথ অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি মোহাম্মদ মোরশেদ ওরফে আকিল এবং মো. আলী আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি দিদারুল আলম পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
এরপর থেকেই হাটহাজারী মডেল থানার একটি বিশেষ তদন্ত দল তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন স্থানে নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অবশেষে কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাসেল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিদারুল আলম জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নুরুল আজিমকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বাড়ির গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কিরিচ ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা অস্ত্র দুটি হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে।পুলিশ আরও জানায়, দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ছয়টি সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অপেক্ষায় ছিল। অপরদিকে তার সহযোগী মোহাম্মদ মোরশেদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও কার্যকরের অপেক্ষায় ছিল।পুলিশের দাবি, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


