
রংপুর, ৩ আগস্ট: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সকাল থেকেই ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং জুলাই ও বিগত সময়ের বিভিন্ন ঘটনার ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রদর্শিত একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী এবং বিএনপির সাবেক নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই ফেস্টুন সরানোর দাবি নিয়ে কর্মসূচিস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। এতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আহত হন।
আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসু প্যানেলের জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ অন্তত ১০ জন রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আহতদের চিকিৎসায় প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং কোনো অশুভ শক্তি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের শনাক্ত করা হবে এবং যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।


